এর আগে নাজিমুদ্দিন সামাদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বৃহস্পতিবার দুই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পৃথক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়। একইসঙ্গে এই খুনে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে তাদের বিচারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক রবার্ট ওয়াটকিনস এক বিবৃতিতে বলেছেন, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হত্যায় কিছুদিন ছেদ দেখা গেলেও এই হামলায় প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ‘বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের ক্রমবর্ধমান প্রবণতার অংশ হিসেবেই’ নতুন এ হত্যাকাণ্ড।
তিনি বলেন, তিন বছর আগে বাংলাদেশে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড শুরুর পর থেকে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশের পাশপাশি তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
ঝুঁকির মুখে থাকা অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের ‘পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত’ করতে আবারও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর প্রতি আহ্বান জানান রবার্ট ওয়াটকিনস। তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়েই দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে। কারণ এটাই গণতান্ত্রিক সমাজের মূল ভিত্তি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন তার বিবৃতিতে বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক মানবাধিকার। ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সহিষ্ণুতার চর্চার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
পিয়েরে মায়াদুন বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার যে কোনো উদোগ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন পাবে। তিনি নাজিমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তদন্তের মাধ্যমে খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সূত্রাপুরের একরামপুর মোড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর পর মাথায় গুলি করে নাজিমুদ্দিন সামাদকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত নাজিমুদ্দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলএম- এর ছাত্র ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার এলাকায়। তিনি গণজাগরণ মঞ্চের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলে ৩-৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি এসে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং মাথায় গুলি করে হত্যা শেষে দ্রুত পালিয়ে যায়। মিটফোর্ড হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, গুলির সঙ্গে সঙ্গে নিহতের মাথার খুলির অংশটি মাটিতে ছিটকে পড়ে এবং নিথর দেহটি পাশেই লুটিয়ে পড়তে দেখা যায়।
/এমপি/