তেহরান মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি যে মন্তব্য করেছেন তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। সেই সঙ্গে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ওপর সমর্থন বন্ধ করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে ওয়াশিংটনকে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। শনিবার ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন দেহকান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, যদি মার্কিন কর্মকর্তারা এই অঞ্চলে সত্যিই স্থিতিশীলতা আনতে চান তাহলে তাদের উচিত এই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া এবং সন্ত্রাসীদেরকে সমর্থন করা থেকে বিরত থাকা।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি বিশ্বে কল্যাণ, স্থিতিশীলতা এবং শান্তি চায় তাহলে দেশটির উচিত অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং অন্যান্য অঞ্চল থেকে তাদের উপস্থিতির অবসান ঘটানো।
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি যদি এই ইস্যুগুলো নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবতেন তাহলে তিনি এই ধরণের অজ্ঞতা এবং বোকামিপূর্ণ মন্তব্য করতেন না।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাহরাইনের রাজধানী মানামায় এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইরানকে উদ্দেশ্য করে জন কেরি বলেন, ‘সিরিয়া এবং ইয়েমেনের যুদ্ধকে তীব্র না করে বরং দেশ দুটির যুদ্ধ অবসানে আমাদের সাহায্য করুন। এই অঞ্চলের আমূল পরিবর্তনে সহায়তা করুন।’
জন কেরি বলেন, ‘ইরানকে বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করতে হবে যে, তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গঠনমূলক একটি সদস্য।’
বিশ্বের শান্তি এবং স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জন কেরির সংবাদ সম্মেলনে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খালিদ বিন আহমেদ আল-খলিফাও উপস্থিত ছিলেন। তিনিও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা দেখতে চাই ইরান তাদের পররাষ্ট্র নীতির পরিবর্তন করেছে।’
বাহরাইনের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া জনগোষ্ঠীর বিদ্রোহে ইরানের মদদ রয়েছে বলে বরাবরই অভিযোগ করে আসছে দেশটির সুন্নি সরকার।
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে বর্তমানে উপসাগরীয় সবগুলি দেশই অংশগ্রহণ করছে। ইয়েমেনের সুন্নি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গত বছর দেশটির রাজধানী দখল করে নেয় শিয়া হুতি বিদ্রোহীরা। ফলে গতবছরের মার্চ থেকেই হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে সৌদি জোট। তাদের অভিযোগ এই হুতিদের সমর্থন করছে ইরান। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ৬ হাজার ৩০০ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সূত্র: ইয়াহু।
/এএ/এমপি/