২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে প্রাণী ও মানুষের যত ভবিষ্যদ্বাণী

২০১০ সালের বিশ্বকাপে ফুটবল দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল পল দ্য অক্টোপাস। নিজের ক্যারিয়ারে ১৪টি ম্যাচের মধ্যে ১২টির ফল সঠিকভাবে অনুমান করে প্রাণী জগতের এক অনন্য ভবিষ্যদ্বক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল সে। পলের সেই জনপ্রিয় ঐতিহ্যকে ধরে রেখে এবার ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভবিষ্যদ্বাণীর খেলায় নেমেছে মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা চিড়িয়াখানার প্রাণীরা। একইসঙ্গে নিজেদের পূর্বাভাস দিচ্ছেন ফুটবল বিশ্লেষক ও তারকা খেলোয়াড়রাও।

গুয়াদালাহারা চিড়িয়াখানার পশুচিকিৎসক ইভান রেইওনসো জানিয়েছেন, চিড়িয়াখানার প্রাণীরা বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচের ফলাফল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করবে। এ জন্য প্রতিটি প্রাণীর সামনে দুটি বিশ্বকাপ দলের বিকল্প রাখা হয়। সেখান থেকে তাদের নির্বাচনের ভিত্তিতেই তৈরি হয় জয়-পরাজয়ের পূর্বাভাস।

প্রথম দফার পূর্বাভাসে হাতিরা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোকে বেছে নিয়েছে। গরিলারা স্পেনের বিপক্ষে উরুগুয়ের জয়ের পক্ষে মত দিয়েছে। পুমা চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে দক্ষিণ কোরিয়াকে এগিয়ে রেখেছে। আর জিরাফরা কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে।

২০১০ সালে পল দ্য অক্টোপাসের হাত ধরেই ফুটবল বিশ্বকাপে প্রাণীদের মাধ্যমে ফল অনুমানের এই ধারা জনপ্রিয়তা পায়। এবার গুয়াদালাহারা চিড়িয়াখানার হাতি, গরিলা, পুমা ও জিরাফেরা সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে আসন্ন ম্যাচগুলোর সম্ভাব্য বিজয়ী দল বেছে নিয়েছে।

তবে শুধু প্রাণীরাই নয়, বিশ্বকাপ নিয়ে চলছে গাণিতিক মডেল ও বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাসও। জার্মান অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগ বিশ্লেষক ইওয়াখিম ক্লেমেন্টর তৈরি একটি গাণিতিক মডেল বলছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারে নেদারল্যান্ডস। এই পূর্বাভাসের বড় চমক হলো ফেবারিট হিসেবে বিবেচিত আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন কিংবা ফ্রান্সকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখানো হয়নি।

ইওয়াখিম ক্লেমেন্ট এর আগে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নও তার মডেলের মাধ্যমে সঠিকভাবে অনুমান করেছিলেন। ফলে নতুন এই পূর্বাভাস ঘিরে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মতামত দিয়েছেন বর্তমান ফুটবল তারকারাও। স্প্যানিশ জনপ্রিয় স্ট্রিমার ইবাই লানোসের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্পেনের তরুণ মিডফিল্ডার গাভি বলেন, তার বিশ্বাস ২০২৬ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবে স্পেন এবং রানার্সআপ হবে পর্তুগাল।

চমকপ্রদ দল হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন ইকুয়েডরকে। গাভির মতে, দলটিতে এমন কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছেন যারা টুর্নামেন্টে বড় ধরনের চমক দেখাতে পারেন।

ব্যক্তিগত পুরস্কারের ক্ষেত্রেও তিনি আস্থা রেখেছেন নিজের জাতীয় দল ও ক্লাব সতীর্থ লামিনে ইয়ামালের ওপর। গাভির ধারণা, ইয়ামালই বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিততে পারেন। এ ছাড়া সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি এগিয়ে রেখেছেন মিকেল ওয়্যারজাবালকে। উদীয়মান তারকা হিসেবে তার পছন্দ জোয়াও ফেলিক্স, আর সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন নেইমারকে।

বিশ্বকাপের এখনও বাকি অনেকটা সময়। তবে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই প্রাণী, গাণিতিক মডেল এবং ফুটবল তারকাদের নানা পূর্বাভাস বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহল বাড়িয়ে তুলছে।

সূত্র: আল জাজিরা, ইএসপিএন