নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠকের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) অনুরোধে কেন্দ্রীয় সরকার রাজি হওয়ার পর আজ শুক্রবার কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়াতে দুই পক্ষ আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। মূল দাবিগুলো পূরণে সরকারের আশ্বাসের পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তার ২৬ দিনের অনশন শেষ করার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এই অগ্রগতির খবর জানা গেলো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, শুক্রবার দুপুর সাড় ১২টার দিকে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, নিরপেক্ষ স্থানের দাবি মেনে নেওয়ার সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তাদের সংগঠন স্বাগত জানাচ্ছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সৌরভ দাস বলেন, একটি আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে একটি নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠক করার আমাদের অনুরোধে সরকার রাজি হয়েছে এবং কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি আশা করি সরকার খোলা মনে আলোচনায় আসবে এবং জনগণের কথা শুনবে।
এর আগে মন্ত্রী ভবন বা তাদের কার্যালয়ে আয়োজিত বৈঠকের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিল সিজেপি। তাদের স্পষ্ট দাবি ছিল, কোনও নিরপেক্ষ স্থান ছাড়া সরকারপক্ষের সঙ্গে কোনও আলোচনা হবে না।
দুই পক্ষের মধ্যে এর আগের দফায় গত ২০ জুলাই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেদিন সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন।
ওই দুই নেতা অভিযোগ তুলেছিলেন যে, বৈঠক চলাকালীন তাদের ‘কার্যত গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই তারা জোর দিয়ে বলে আসছিলেন যে সরকারের সঙ্গে ভবিষ্যতের যেকোনও আলোচনা কেবল নিরপেক্ষ কোনও স্থানেই হতে হবে।
সিজেপি শুরু থেকেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি থামবে না। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি তাদের অন্য দাবিগুলো হলো, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে অনিয়মের দায়বদ্ধতা নির্ধারণ, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা ও আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাহার করা।