ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা হলে সেই প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। শুক্রবার (৭ আগস্ট) একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান এমন কোনও চাপ মেনে নেবে না, যার লক্ষ্য দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান নিজেদের অধিকার বলে বিবেচিত বিষয়গুলো রক্ষায় এবং সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখতে কাজ চালিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, তারা যদি আমাদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চায়, তাহলে আমরা লড়াই করবো। আমরা পিছপা হবো না, মাথা নত করবো না। আমরা যখন আমাদের অধিকার নিশ্চিত করতে সক্ষম, তখন কেন এমন পথে যাব, যা ইসরায়েল চায়?
ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা শক্তি বিসর্জন দেওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন তিনি। এগুলো সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কোনও আপস করা হবে না বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমাদের সব সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা শক্তি কেড়ে নেওয়া হবে এবং আমরা তাদের (প্রতিপক্ষের) সামনে মাথা নত করবো—এটা কি মেনে নেওয়া উচিত? আমরা এমন কিছু করবো না।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘উসকানিবিহীন আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়াকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন পেজেশকিয়ান। একইসঙ্গে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা আত্মরক্ষায় বাধ্য হয়েছিলাম। সৃষ্টিকর্তার শপথ, আমাদের যোদ্ধারা—মহাকাশ ও বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, আইআরজিসি এবং আমাদের সব সামরিক সদস্য—প্রচণ্ড প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন এবং বিশ্বকে বিস্মিত করেছেন।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, এখন যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তাতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বিরুদ্ধে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছে। আর আমরা তা ঠেকানোর চেষ্টা করছি।
তেল আবিব ও ওয়াশিংটনের উসকানি সত্ত্বেও ইরান মুসলিম ঐক্যে বিশ্বাস করে বলে জানান পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে বিভেদকে মুসলিমদের পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করার ভিত্তি হিসেবে দেখে না ইরান।
তিনি বলেন, “এটি আমার বিশ্বাস ও প্রত্যয়। আমি স্লোগান হিসেবে এটি বলছি না, বরং সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস করি—মুসলমানরা পরস্পরের ভাই।”
ইরান আঞ্চলিক ভূখণ্ড সম্প্রসারণ করতে চায় বা প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার পরিকল্পনা করছে—এমন ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেন পেজেশকিয়ান। তিনি ইরানের এই অবস্থানের সঙ্গে ইসরায়েলের ভূখণ্ড সম্প্রসারণের আকাঙ্ক্ষার তুলনা করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের অন্য কোনও দেশে হামলা, ভূখণ্ড দখল কিংবা সীমান্ত সম্প্রসারণের কোনও ইচ্ছা নেই। বিপরীতে, জায়নবাদীরা ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। আমরা এই অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতিবেশী, তাদের সঙ্গে আমাদের সীমান্ত রয়েছে এবং আমাদের একসঙ্গে বসবাস করতে হবে।”
সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিদেশি আগ্রাসনে আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার জন্য এসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে।
সূত্র: প্রেস টিভি