উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে মালয়েশিয়ায় নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য ওয়ান মালয়েশিয়া ডেপেলপমেন্ট বারহাদ বা ওয়ান এমডিবি নামের তহবিল গঠন করা হয়। তবে ওই প্রকল্পের আওতায় সরকারিভাবে নিয়োগকৃত বিদেশি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, জনস্বার্থ ক্ষুণ্ন করা এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠার পর তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে সুইস কর্তৃপক্ষ। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে খোদ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধেও। বলা হয়, তহবিলের ৬৮১ মিলিয়ন ডলার নাজিবের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে নাজিব দাবি করেন, ওই অর্থ অনুদান হিসেবে সৌদি সরকারের কাছ থেকে পেয়েছেন। অবশ্য জানুয়ারিতে অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি পান তিনি।
আরও পড়ুন: তহবিল থেকে উধাও ৪শ কোটি ডলার!
শুক্রবার মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম বারনামার খবরে বলা হয়, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চলমান ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনের এক ফাঁকে সাংবাদিকদের সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নাজিবের অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ সৌদি অনুদান। এর আগে, নাজিবের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুবায়ের বলেন, ‘আমরা ওই অনুদানের ব্যাপারে জানি এবং এটি একটি বিশুদ্ধ অনুদান। কারণ এ অনুদানের বিনিময়ে কিছু চাওয়া হয়নি। আমরা এও জানি যে, মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল নাজিবের ওই তহবিল নিয়ে তদন্ত করেছেন এবং তিনি কোনও দুর্নীতি পাননি। আমরা যতদূল জানি, দুর্নীতিসংক্রান্ত ওই অভিযোগের সমাপ্তি হয়েছে।’
আরও পড়ুন: সরকারের তোপের মুখে 'দ্য মালয়েশিয়ান ইনসাইডার' বন্ধ ঘোষণা
তবে নাজিব দুর্নীতির অভিযোগ থেকে রেহাই পেলেও গোটা ওয়ানএমডিবি তহবিলটিই দুর্নীতির অভিযোগে ছেয়ে গেছে। গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টারি তদন্তে দেখা যায়, ওয়ানএমডিবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুরো বোর্ড দায়িত্বহীন আচরণ করেছে। তহবিলটির সাবেক প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে নাজিবকে অভিযুক্ত করা হয়নি।
গত বছর ওয়ানএমডিবি তহবিল নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুইস কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র ও হংকংয়ের নিয়ন্ত্রকরাও এ নিয়ে তদন্ত করছেন। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স
/এফইউ/বিএ/