মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্বস্তি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোটের নিয়ম কঠোর করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া উদ্যোগে বড় ধরনের আইনি সুবিধা পেয়েছে তার প্রশাসন। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নে বাধা দেওয়া একটি নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

তবে পুরোপুরি বাধামুক্ত হয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। একই বিষয়ে আরেকটি নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটের নিয়ম পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই চলছেই।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে বোস্টনের ফেডারেল বিচারক ইন্দিরা টালওয়ানির জুনের আদেশ স্থগিত করে। ওই আদেশের কারণে ট্রাম্প প্রশাসন তার নির্বাহী আদেশ কার্যকর করতে পারছিল না। আদালতের তিন উদারপন্থী বিচারপতি সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছেন।

কী করতে চান ট্রাম্প?

ট্রাম্প গত মার্চে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এতে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে ভোট দেওয়ার যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের তালিকা তৈরি করে রাজ্যগুলোর কাছে পাঠাতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ফেডারেল নির্বাচনে ‘অযোগ্য’ ব্যক্তিদের ব্যালট দেওয়ার অভিযোগে রাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও মামলা করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে বিচার বিভাগকে বলা হয়।

আদেশে আরও বলা হয়, কোনও অঙ্গরাজ্যের অনুমোদিত মেইল-ইন ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে ইউএস পোস্টাল সার্ভিস যেন সংশ্লিষ্ট ভোটারের ব্যালট সরবরাহ না করে।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ডাকযোগে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন এবং দেশজুড়ে এ ধরনের ভোট বন্ধ করার কথা বলেছেন। তবে ডাকযোগে ভোটে ব্যাপক জালিয়াতির প্রমাণ খুবই বিরল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

২৩ অঙ্গরাজ্যের মামলা

ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে ২৩টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি মামলা করে। এসব রাজ্যের বেশিরভাগই ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত।

তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এভাবে অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনি ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না। নির্বাচনের নিয়ম ও ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে।

জুনে বিচারক টালওয়ানি ট্রাম্প প্রশাসনের আদেশ বাস্তবায়নে নিষেধাজ্ঞা দেন। পরে ট্রাম্প প্রশাসন সেই আদেশ স্থগিত করতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। এবার সর্বোচ্চ আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করল।

আরেকটি নিষেধাজ্ঞা বহাল

তবে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে ট্রাম্পের পুরো পরিকল্পনা এখনই কার্যকর হচ্ছে।

গত ১১ আগস্ট বিচারক টালওয়ানি পৃথক একটি মামলায় ইউএস পোস্টাল সার্ভিসকে ট্রাম্পের আদেশ অনুযায়ী ডাকযোগে ভোটের নতুন নিয়ম কার্যকর করা থেকে দেশজুড়ে বিরত রাখেন। মামলাটি করেছিল কয়েকটি ভোটাধিকার সংগঠন।

সোমবার সুপ্রিম কোর্ট ওই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে পোস্টাল সার্ভিসের ওপর দেওয়া এই বাধা এখনো বহাল রয়েছে।

এর আগে ইউএস পোস্টাল সার্ভিস ডাকযোগে ভোটের নিয়ম আরও কঠোর করার একটি নতুন বিধিমালা জারি করেছিল। সেখানে রাজ্যগুলোকে মেইল-ইন ব্যালট পাওয়া ভোটারদের তালিকা দেওয়ার পাশাপাশি ব্যালটের খামে নির্দিষ্ট বারকোড ব্যবহারের মতো শর্ত রাখা হয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই নিয়মের বাস্তবায়নও আটকে আছে।

নির্বাচনের আগে বাড়তে পারে আইনি লড়াই

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। ফলে ডাকযোগে ভোটের নিয়মে পরিবর্তনের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।

সুপ্রিম কোর্টের সোমবারের সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনকে সাময়িকভাবে স্বস্তি দিলেও তার নির্বাহী আদেশকে চূড়ান্তভাবে সাংবিধানিক বলে ঘোষণা করা হয়নি। আদালত শুধু একটি নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে।

ফলে অঙ্গরাজ্যগুলো আবার আদালতে যেতে পারে এবং নির্বাচনের সময় যত এগিয়ে আসবে, ডাকযোগে ভোটের নিয়ম নিয়ে আইনি লড়াইও আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।