যুক্তরাষ্ট্রের নথিপত্র চুরির দায়ে দণ্ডিত ইসরায়েলি গুপ্তচর জোনাথন পোলার্ড ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার পাশাপাশি মিসর ও তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে ইসরায়েলকে আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে নিজের প্রচারের অংশ হিসেবে এ মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সাবেক এই গোয়েন্দা বিশ্লেষক ইসরায়েলের কাছে বিপুল পরিমাণ গোপন নথি হস্তান্তরের দায়ে ৩০ বছর মার্কিন কারাগারে কাটিয়েছেন। রবিবার ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম আইএলটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পোলার্ড ইরানকে ‘মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার’ আহ্বান জানান এবং মিসর ও তুরস্ককে ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেন।
পোলার্ড বলেন, আমি এভাবে বলতে চাই না, তবে তুরস্ক ও মিসর আমাদের পরবর্তী প্রধান কৌশলগত হুমকি হতে যাচ্ছে। সেই সময় আসার আগেই যদি আমরা অন্যান্য সব ফ্রন্ট নির্মূল করতে না পারি, তবে আমরা এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়ব।
মিসর ও তুরস্ক উভয়ের সঙ্গেই ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, যার মধ্যে ১৯৭৯ সালে মিসরের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। তা সত্ত্বেও পোলার্ডের এই মন্তব্য অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত তিন বছরে ইসরায়েল লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, কাতার, ইয়েমেন এবং ইরানে আক্রমণ চালিয়েছে।
পোলার্ড আরও দাবি করেন, গাজার ভবিষ্যৎ কেবল ইসরায়েলই নির্ধারণ করবে এবং লেবাননের অতিরিক্ত ভূখণ্ড দখলের পক্ষেও সমর্থন দেন তিনি। তিনি বলেন, লেবাননের বিষয়ে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের সীমানা উত্তরে লিটানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত করার পক্ষে ছিলাম। সেই সঙ্গে ওয়াশিংটনের জন্য অপেক্ষা না করেই ইরানকে আক্রমণ করার জন্য তিনি ইসরায়েলকে তাগিদ দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ১৯৮৫ সালে পোলার্ড গ্রেফতার হন এবং পরে মার্কিন নৌবাহিনীর বেসামরিক গোয়েন্দা বিশ্লেষক হিসেবে গোপন নথি ইসরায়েলকে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে ৩০ বছর কারাগারে কাটানোর পর ২০১৫ সালে মুক্তি পেয়ে ইসরায়েলে চলে যান। তার এই ঘটনা মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায়গুলোর একটি। তৎকালীন চারজন সাবেক মার্কিন নৌ গোয়েন্দা পরিচালক তাকে ‘লোভী ও চরম বেপরোয়া বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা নিয়ে কোনও অনুশোচনা নেই জানিয়ে পোলার্ড বলেন, নিজের মানুষ এবং নিজের মাটির সেবা করার জন্য আমার কোনও আফসোস নেই। ইহুদিরা যে দেশেই বাস করুক না কেন, তাদের সর্বদা ‘দ্বৈত আনুগত্য’ থাকবে।
রবিবার পোলার্ড সাবেক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শারেন হাসকেল পরিচালিত নতুন ডানপন্থি দল ইসরায়েল ফার্স্ট-এর হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন।
সূত্র:

‘বিশ্বাসঘাতকতা মানব না’, নতুন কর্মসূচির ডাক দিলো ককরোচ জনতা পার্টি
যুক্তরাষ্ট্রে সহিংস অপরাধ কমার নেপথ্যে অ্যালকোহল, এআই নাকি বয়সের প্রভাব
৪০ লাখের বেশি ইভি ফেরত নেওয়ার নির্দেশ






