নেপাল-তিব্বত সীমান্তে প্রলয়ঙ্করি আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। নেপাল কর্তৃপক্ষের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, এই ভয়াবহ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এখনও ২,৪০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
হিমালয় অঞ্চলের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহ ধসে এই ধ্বংসাত্মক প্লাবনের সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। আন্তর্জাতিক একটি ত্রাণ সংস্থার উদ্ধারকর্মী এই দুর্যোগের তীব্রতাকে সাগরের ভয়াবহ ‘সুনামি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন।
জলবায়ু মোকাবিলায় বৈশ্বিক আহ্বানের ডাক
এই মহাবিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে জরুরি ‘বৈশ্বিক প্রচেষ্টা’ বা সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তার মধ্যে নেপাল অন্যতম। বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ কমানো ও পরিবেশ সুরক্ষায় উদ্যোগ না নিলে হিমালয় অঞ্চলের এমন প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব নয়।”
দুর্গত এলাকায় হাহাকার ও নিখোঁজ উদ্ধার
সীমান্তের উভয় পাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম, সড়ক ও ব্রিজ এই প্লাবনে সম্পূর্ণ মাটির নিচে বিলীন হয়ে গেছে। কাদার তোড়ে নিখোঁজ ২৪০০-এর বেশি মানুষের মধ্যে শত শত বিদেশি পর্যটক ও কৈলাশ মানস সরোবরগামী পুণ্যার্থী রয়েছেন।
বৈরী আবহাওয়া ও পাহাড়ি কাদার স্তূপের কারণে সেনা ও উদ্ধারকারী দলগুলোকে নিখোঁজদের খোঁজে চরম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।