ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ‘ব্যর্থ ও ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘মৃত’ দাবি করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কড়া জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানকেন্দ্রিক চলমান যুদ্ধ সপ্তম মাসে গড়ালেও নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
ট্রাম্পের কড়া প্রতিক্রিয়া ও শাসনব্যবস্থার পতন দাবি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, “ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। এটি সম্পূর্ণ মৃত! তাদের কোনও নৌবাহিনী নেই, কোনও বিমানবাহিনী নেই, দেশের কোনও মুদ্রা ব্যবস্থা নেই এবং তারা নিজেদের সেনা ও পুলিশকে বেতন পর্যন্ত দিতে পারছে না। দেশে মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে এবং তাদের নেতৃত্ব চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে।”
এছাড়া ট্রাম্প অভিযোগ করেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচার গণহত্যা চালিয়ে বর্তমান সরকার টিকে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন এবং ইরানি নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার হওয়া উচিত। যদিও নতুন এই প্রাণহানির দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো তথ্যপ্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।
জর্ডানে হামলা ও নতুন সামরিক উত্তেজনা
এক মাসের আপেক্ষিক বিরতির পর হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে ইরানি রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা চালালে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, সমুদ্রপথ অবরুদ্ধ করতে নৌ-মাইন বর্ষণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তারা লারাক দ্বীপে হামলা চালায়।
এর জবাবে জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার ট্রাম্প বলেন, “আমরা ওদের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছি। এই হামলার নিশ্চিত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।”
সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা
হোয়াইট হাউস থেকে সম্প্রতি সামরিক অভিযানের চেয়ে অর্থনৈতিক অবরোধ জোরদারের আভাস দেওয়া হলেও, রবি ও সোমবারের নতুন হামলা-পাল্টা হামলা যুদ্ধ বিরতির আলোচনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। অপরদিকে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন বাহিনীর হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন সৈন্য হতাহত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো নতুন সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দশগুণ শক্তিশালী পাল্টা আক্রমণ চালানো হবে।