আন্তর্জাতিক ও বিদেশি (বিশেষত পশ্চিমা) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সরকারি তথ্য ও খবরাখবর প্রকাশের ওপর জারি থাকা দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অনুমোদনের পর এই ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফের দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আব্বাস পাজুকি। খবর আল জাজিরা।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ইসনা-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে আব্বাস পাজুকি এই নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, কেন এতদিন এই নিয়ম বহাল রাখা হয়েছিল তা তার কাছে বোধগম্য নয়।
‘গুজবের কাছে মাঠ ছেড়ে দিয়েছিলাম’
পাজুকি লেখেন, “কয়েক বছর আগে একটি অদ্ভুত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, যেখানে বলা হয় কোনও সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বিদেশি মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে তথ্য দিতে পারবে না। এর ফল কী হয়েছিল? দেশের জনগণ, যুবসমাজ ও গণমাধ্যম আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে গুজব ও খবর পড়ছিল, কিন্তু যেখানে আসল মানুষ উপস্থিত ছিল, সরকার সেখানে অনুপস্থিত থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে উত্তর দিচ্ছিল!”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা স্বহস্তে প্রতিপক্ষের মিডিয়া ট্রাইব্যুনাল ও মনস্তাত্ত্বিক অভিযানের জন্য ফাঁকা মাঠ ছেড়ে দিয়েছিলাম এবং এর জন্য আমাদের চরম খেসারত দিতে হয়েছে। অবশেষে হেডকোয়ার্টারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে এই লক ভাঙা হলো।”
সাধারণ জনগণের জন্য সেন্সরশিপ বহাল
সরকারি প্রচারণার ক্ষেত্রে এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম বা টেলিগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ উন্মুক্ত করা হলেও, দেশটির সাধারণ জনগণের ইন্টারনেট ব্যবহারে কোনও বড় শিথিলতা আনা হয়নি। ইরানি নাগরিকদের একটি বড় অংশ এখনও চরম ইন্টারনেট সেন্সরশিপের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে তারা ভিপিএন-এর ওপর নির্ভরশীল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের মুখে পশ্চিমা গণমাধ্যমের সমান্তরালে নিজেদের বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে দিতেই তেহরান তাদের এই প্রশাসনিক কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করা হচ্ছে।