যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা ‘নাইন-ইলেভেনের’ ২৫ বছর পূর্ণ হলো। ২০০১ সালের এই দিনে হাইজ্যাক করা চারটি বিমান দিয়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, পেন্টাগন এবং পেনসিলভেনিয়ার মাঠে সংঘটিত হামলায় প্রাণ হারানো প্রায় তিন হাজার মানুষকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে পুরো আমেরিকা। খবর বিবিসি।
পেন্টাগনে আয়োজিত মূল স্মারক অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অপরদিকে নিউইয়র্কের নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ‘গ্রাউন্ড জিরোতে’ আয়োজিত প্রধান শ্রদ্ধাঞ্জলিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা ও জো বাইডেন।
‘কখনও ভুলবো না’
পেন্টাগনের অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০০১ সালের ঘটনার প্রেক্ষাপটের সাথে তার বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য ও ইরান নীতির মেলবন্ধন ঘটান।
ট্রাম্প বলেন, “পঁচিশ বছর আগে যাদের স্মরণে আমরা শপথ নিয়েছিলাম, আজ তা পুনর্নবীকরণ করছি। আমরা এই আঘাত কখনও, কোনোদিন ভুলবো না। আর সে কারণেই আমরা আজও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।”
ইরান প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে আমরা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেবো না।”
সপ্তম ঘণ্টার ধ্বনি ও পরবর্তী ট্র্যাজেডি
অনুষ্ঠানে প্রতিটি বিমান আঘাত হানা এবং টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার স্মরণে মোট ছয়টি ঐতিহ্যবাহী ঘণ্টার ধ্বনি বাজানো হয় এবং নিরবতা পালন করা হয়।
তবে এবারই প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয় সপ্তম একটি ঘণ্টার ধ্বনি। এটি বাজানো হয় হামলা পরবর্তী ধোঁয়া, বিষাক্ত ধুলাবালি ও ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া হাজার হাজার মানুষের স্মরণে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, হামলা পরবর্তী বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট রোগে গত ২৫ বছরে মূল হামলায় নিহতের চেয়ে তিন গুণ বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সৌদি আরবের ভূমিকা ও বিচারে ক্ষোভ
ম্যানহাটনে নিহতদের নাম উচ্চারণের সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় নিহত টম স্ট্রাডার স্ত্রী ও ‘৯/১১ ফ্যামিলিস ইউনাইটেড’-এর প্রধান তেরি স্ট্রাডা সৌদি আরবের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মার্কিন সরকারের ব্যর্থতার কড়া সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, “২৫ বছর পার হয়ে গেলেও আমার স্বামীর হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরবের ভূমিকার কোনও বিচার আমরা পেলাম না।”
উল্লেখ্য, ওই হামলায় অংশ নেওয়া ১৯ জন হাইজ্যাকারের অধিকাংশই ছিলেন সৌদি নাগরিক।
এ ছাড়া পেনসিলভেনিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে এবং কানাডার গান্ডারেও নানা আয়োজনে নিহতদের স্মরণ করা হয়। নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারের ১১০ তলার স্মরণে ইতালির মিলানে ১১০ তলা ভবন বেয়ে ফায়ার ফাইটারদের বিশেষ ‘স্টেয়ার ক্লাইম্ব’ শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠিত হয়।