রিয়াদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় ১২ জন নিহত, ফ্লাইট চলাচল বন্ধ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ)।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দরে ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। রবিবারের এই হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট পরিচালনা ও কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৪ জন সৌদি এবং ২ জন বাংলাদেশি নাগরিক ছাড়াও মিশর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সুদান, সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের ১ জন করে নাগরিক রয়েছেন। 

রয়টার্সকে দেওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের ৪০১ নম্বর গেটের কাছে একটি প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন) আঘাত হানে। বিস্ফোরণের সাথে সাথেই বিমানবন্দরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং শত শত যাত্রী দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন।

প্রজাতন্ত্রটির পূর্ববর্তী অঞ্চল দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও আরেকটি প্রজেক্টাইল আছড়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

হামলার পরপরই ডজনখানেক অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে। চিকিৎসকদের জরুরিভিত্তিতে হাসপাতালে তলব করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এভিয়েশন ট্র্যাকার ‘ফ্লাইটরডার’-এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদগামী সব ফ্লাইট হয় অন্য বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়েছে অথবা বাতিল করা হয়েছে। কুয়েত এয়ারওয়েজসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক বিমানসংস্থা নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে রিয়াদে তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

রিয়াদস্থ মার্কিন দূতাবাস এবং যুক্তরাজ্য পররাষ্ট্র দফতরসহ অন্যান্য পশ্চিমা দূতাবাস তাদের নাগরিকদের বিমানবন্দর এলাকা এড়িয়ে চলার ও নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে সংঘাত চরম রূপ নিয়েছে। হুথিরা অভিযোগ করেছে, সৌদি অবরোধ ও ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপের জবাবে তারা সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, ট্যাঙ্কার এবং বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এর আগেও ৬, ৭ এবং ৯ অক্টোবরে রিয়াদসহ একাধিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় চালকসহ অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছিল।

এই ঘটনার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সৌদি সামরিক বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে।