ইসরায়েলের নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থীদের ওপর হামলা

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন বিরোধী দলের প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি ও হেনস্তার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলানের কাছে ছুরি নিয়ে এক ব্যক্তির উপস্থিতি, দলটির দুই কর্মীকে মারধর এবং এক নিহত সেনার বাবাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে গালিগালাজের ঘটনা সামনে এসেছে। এ ছাড়া অতি-অর্থোডক্স সম্প্রদায়ের এক রাজনীতিকও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ইসরায়েলের নির্বাচনের দিন এসব ঘটনা ঘটে। দেশটির সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ চলছিল। ভোটের দিন ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো সেই উত্তেজনারই প্রতিফলন। তবে এসব ঘটনার মধ্যেও অধিকাংশ ভোটার শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ডেমোক্র্যাটস পার্টির অভিযোগ, তেল আবিবের মেসিলা পার্কে নির্বাচনী প্রচারের সময় দলটির প্রধান ইয়ার গোলানের দিকে ভীতিকর ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন এক ব্যক্তি। গোলানের নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে বাধা দিলে ওই ব্যক্তির পোশাক থেকে একটি বড় ছুরি মাটিতে পড়ে যায়। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গোলানের কাছ থেকে ছুরিসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির বয়স ২০-এর কোঠায় এবং তিনি জেরুজালেমের বাসিন্দা। তবে গোলানকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা হয়েছিল বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা অস্বীকার করেছে পুলিশ।

এর আগে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগের পর গোলানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, উসকানি ও সহিংসতা তাদের আন্দোলন থেকে বিরত রাখতে পারবে না।

ডেমোক্র্যাটস পার্টির দুই কর্মীকে মারধর

ভোটের দিন হলোন শহরে ডেমোক্র্যাটস পার্টির নির্বাচনী প্রচারকেন্দ্রে দুই কর্মীকে ঘুষি মারার ঘটনা ঘটে। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় একজন কর্মী অচেতন হয়ে পড়েন।

ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি প্রচারকেন্দ্রের কাছে এসে কর্মীদের সঙ্গে বিবাদে জড়ান। একপর্যায়ে তিনি দুই কর্মীর মুখে ঘুষি মারেন। এতে একজন মাটিতে পড়ে যান।

ডেমোক্র্যাটস পার্টি অভিযোগ করেছে, হামলাকারী অতি-ডানপন্থী নেতা ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনে পুলিশের কোনও নিশ্চিত বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।

দলটির অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে উসকানি ছড়িয়ে পড়ার ফলেই মাঠপর্যায়ে এ ধরনের সহিংসতা ঘটছে। হামলার খবর পেয়ে গোলান নির্বাচনী কর্মসূচি পরিবর্তন করে আহত কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে হলোনে যান।

নিহত সেনার বাবাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে গালিগালাজ

নেতানিয়াহুর বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেকটি ঘটনায় নিহত ইসরায়েলি-আমেরিকান সেনা ইতাই চেনের বাবা রুবি চেনকে হেনস্তা করা হয়। নেতানিয়াহুর বিরোধী সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দল বি’ইয়াহাদের প্রচার-স্টিকার লাগানো আরেক ব্যক্তির সঙ্গে তিনি নেতানিয়ার একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন।

এ সময় এক ভোটার তাকে বারবার ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে গালিগালাজ করেন এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার সময় ইতাই চেন নিহত হন এবং তার মরদেহ গাজায় আটক রাখা হয়েছিল।

অতি-অর্থোডক্স রাজনীতিকের পরিবারের প্রতি হুমকির অভিযোগ

অতি-অর্থোডক্স রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের বিদ্রোহী রাজনীতিক মোতি লাইটনারও নির্বাচনের দিন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। একটি বাসস্টপে একদল তরুণ তাঁকে লক্ষ্য করে বিদ্রূপ ও কটূক্তি করে। লাইটনার আরও অভিযোগ করেন, আরেক দল তরুণ তাঁর বাড়ির কাছে গিয়ে তাঁর সন্তানদের হুমকি দিয়েছে।

এদিকে ডানপন্থী দল ইসরায়েল বেইতেনু জানিয়েছে, অতি-ডানপন্থী কর্মীরা তাদের একটি নির্বাচনী প্রচারকেন্দ্র ভাঙচুর করেছে। দলটি এ ঘটনায় বেন-গভিরের সমর্থকদের দায়ী করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্তেজনার মধ্যেও রেকর্ড ভোটার উপস্থিতি

নির্বাচনের দিন এসব ঘটনার কারণে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়লেও দেশটির অধিকাংশ ভোটার শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারে নেতানিয়াহু ও তাঁর বিরোধীরা একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিয়েছিলেন। নেতানিয়াহু পুনর্নির্বাচিত না হলে ইসরায়েল ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়বে বলে মন্তব্য করেছিলেন। অন্যদিকে তাঁর বিরোধীরা সরকারের সমালোচনা করে ক্ষমতার পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটের দিন ঘটে যাওয়া হামলা ও হয়রানির ঘটনাগুলো ইসরায়েলের তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণের চিত্র তুলে ধরেছে। তবে এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনার পাশাপাশি নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ অধিকাংশ ভোটারের জন্য শান্তিপূর্ণ ছিল।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল