পানামা পেপারস ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কর ফাঁকির তদন্ত শুরু

পানামা পেপারসপানামা পেপারস-এ উঠে আসা দুর্নীতির তথ্য ধরে এবার তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া ওইসব নথিতে (পানামা পেপারস) বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান ও বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকি ও সম্পদ গোপনের খবর সামনে আসার পর মার্কিন বিচার বিভাগ এ নিয়ে তদন্ত শুরুর কথা জানালো। ২ শতাধিক মার্কিন নাগরিক তদন্তের আওতায় রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।
পানামা পেপারস ফাঁসের পর চলতি মাসের শুরুতে হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে ওবামা বলেছিলেন, ‘বৈশ্বিক কর ফাঁকির সমস্যা যে একটি বড় সংকট হয়ে দাঁড়াচ্ছে সে ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই।’
আর এরপর এ নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনের অ্যাটর্নি প্রিট ভারারা বলেন, ‘পানামা পেপারসে ফাঁস হওয়া তথ্যের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে অপরাধের তদন্ত শুরু হয়েছে।’ তবে এ ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
নিউ ইয়র্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্বরত ভারারা আর্থিক খাতে অপরাধের বেশ কয়েকটি তদন্ত করেছেন। এবার তিনি পানামা পেপারসের তালিকায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দুই শ’রও বেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছেন।
মোস্যাক ফনসেকার কার্যালয়ের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ
পানামাভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান মোস্যাক ফনসেকার যে নথিগুলো পানামা পেপারস নামে ফাঁস হয়েছিল সেখানকার আরও বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য এরইমধ্যে ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে)এর চিঠি দিয়েছেন ভারারা। এ প্রতিষ্ঠানটিই নথিগুলো ফাঁস করেছিল।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে পানামা পেপারস ফাঁসের মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং রাঘববোয়ালদের আর্থিক কেলেঙ্কারির তথ্য সবার সামনে চলে আসে। গোপনীয়তা রক্ষাকারী হিসেবে পৃথিবীর অন্যতম প্রতিষ্ঠান মোস্যাক ফনসেকা, যেটি পানামার একটি আইনি প্রতিষ্ঠান, সেখান থেকেই সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে ১১ মিলিয়ন নথিপত্র। ফাঁস হওয়া নথিগুলোতে দেখা যায়, অর্থ পাচার করতে, কর ফাঁকি দিতে এবং বিভিন্ন রকম নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এই আইনি প্রতিষ্ঠানটি তার মক্কেলদেরকে পরামর্শ দিয়ে আসছে আর তাদের পরামর্শ নিচ্ছেন বিশ্বের শীর্ষ রাজনীতিক থেকে শুরু করে ক্ষমতাবান ও সম্পদশালীরা। পানামা পেপারস ফাঁসের পর বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। এ ঘটনার জেরে এরইমধ্যে পদত্যাগ করেছেন আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও স্পেনের শিল্পমন্ত্রী। 

ফাঁস হওয়া নথিগুলোর তথ্য নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তদন্ত শুরু হয়। ফ্রান্স-অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ড-অস্ট্রিয়া-সুইডেন-নেদারল্যান্ডসসহ বেশকিছু দেশ তাদের নিজ নিজ দেশের অভিযোগ ওঠা ধনী ও ক্ষমতাশালীদের ব্যাপারে তদন্তের কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও বিষয়টি খতিয়ে দেখার ঘোষণা দেয়। আর সে ধারাবাহিকতায় এবার তদন্ত শুরুর কথা জানালো দেশটি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান 

/এফইউ/বিএ/