পোল্যান্ডে উগ্র-ডানপন্থি তরুনের গুলিতে নিহত ৬, বন্দুকধারীর বাড়িতে মিললো আরও ৩ লাশ

পোল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ক্রাকফের ঐতিহাসিক ‘মেইন মার্কেট স্কয়ারে’ এক উগ্র-ডানপন্থি সশস্র তরুণের এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে অন্তত ৬ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীর বাড়ি থেকে আরও ৩টি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, যা নিয়ে এ ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। খবর বিবিসি। 

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্ক এ ঘটনাকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ৩টার দিকে সামরিক বাহিনীর ছদ্মবেশধারী ২৫ বছর বয়সী এক তরুণ গাড়ি চালিয়ে ব্যস্ততম স্কয়ারে প্রবেশ করে। এরপর সামরিক মানের অস্ত্র দিয়ে সে পথচারীদের লক্ষ্য করে প্রায় তিন মিনিট ধরে নির্বিচারে গুলি ছোঁড়ে। গুলিতে আশপাশের দোকানের কাচ চুরমার হয়ে যায় এবং একটি ট্রামেও আঘাত হানে।

পরবর্তীতে সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া করে হামলাকারীর গাড়িটি দুর্ঘটনাকবলিত করে এবং গোলাগুলির পর তাকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই গোলাগুলিতে দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিহত ও আহতদের পরিচয় 

মার্কেট স্কয়ারের ৬ নিহত: নিহতদের মধ্যে ৩ জন পোলিশ নাগরিক, ১ জন ব্রিটিশ নাগরিক এবং ২ জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

আহত ১৫ জন: আহতদের মধ্যে দু’জন পুলিশ সদস্য ছাড়াও ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, জার্মানি ও পর্তুগালের পর্যটকরা রয়েছেন।

বাড়িতে ৩ মৃতদেহ: পোলিশ প্রধানমন্ত্রী জানান, হামলাকারীর বাড়ি থেকে যে তিনজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে তারা হামলাকারীর নিকটাত্মীয় (বাবা-মা ও ভাই/বোন)।

পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারসিন কিরউইনস্কি জানিয়েছেন, ২৫ বছর বয়সী এই পোলিশ তরুণ কোনও সামরিক বাহিনীর সদস্য ছিলেন না, তবে তিনি কট্টর জাতীয়তাবাদী ও উগ্র-ডানপন্থি মতাদর্শে চরমভাবে উদ্বুদ্ধ ছিলেন।

হামলার পর ক্রাকফ শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ১১ নভেম্বর পর্যন্ত শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী ওয়ারশতেও বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির প্রশাসন।