খবরে বলা হয়, নাইজেরিয়ার ওই এলাকায় জঙ্গি সংগঠন বোকো হারামের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে দেশটির সামরিক বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান হিসেবেই ওই শরণার্থী শিবিরে বোমা হামলা করা হয়েছে। এই হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন আঞ্চলিক সামরিক বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল লাকি ইরাবর। তিনি জানান, ওই এলাকায় বোকো হারামের যোদ্ধারা রয়েছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তিনি হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের সদস্যসহ অনেক বেসামরিক নাগরিক হতাহত হলেও এই হামলায় ঠিক কতজন হতাহত হয়েছেন, তা তার জানা নেই বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে।
মেজর জেনারেল ইরাবর জানান, বোকো হারামের কিছু সদস্য গোপনে বৈঠক করছে এমন তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই সুনির্দিষ্ট একটি স্থানে বোমা হামলার নির্দেশ দেওয়া হয় বিমান বাহিনীকে। কোন ভুলের কারণে হামলাটি শরণার্থী শিবিরের ওপর চালানো হয়েছে তা-ও তার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো ও স্থানীয় সামরিক বাহিনী বলছে, কালা-বালগে স্থানীয় সরকারের অধীনস্ত ক্যামেরন সীমান্তের র্যান শহরে অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বাস্তু হওয়া শরণার্থীদের জন্য তৈরি করা একটি শরণার্থী শিবিরে বোমা হামলাটি চালানো হয়। রেড ক্রস আন্তর্জাতিক কমিটির একজন কর্মী নাম না প্রকাশের শর্তে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, রেড ক্রসের ২০ জন স্বেচ্ছাসেবী নিহত হয়েছেন এই হামলায়।
আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেন, কালা-বালগে এলাকায় তাদের সংস্থাটি কাজ করছে। তবে হামলায় তাদের কোনও সদস্য হতাহত হয়েছে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।
এই হামলার নিন্দা জানিয়ে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের ডিরেক্টর অব অপারেশন ড. জ্যঁ-ক্লিমেন্ট ক্যাবরল বলেন, ‘যেসব মানুষ এরই মধ্যে চরম সহিংসতা থেকে পালিয়ে এসেছে তাদের ওপরই আবার এ ধরনের একটি হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।’
/টিআর/এমএনএইচ/