সুদানের রাজধানী খার্তুমের মূল পুলিশ ঘাঁটি দখলে নেওয়ার দাবি করেছে দেশটির আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস- আরএসএফ। তারা বলেছে, রাজধানী খার্তুমে তীব্র লড়াইয়ের জন্য এ ঘাঁটিতে কাজে লাগবে তাদের। এক বিবৃতিতে রবিবার আরএসএফ এ দাবি করে।
এতে বলা হয়, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ দক্ষিণ খার্তুমের সবচেয়ে বড় ঘাঁটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ১৬০টি পিক-আপ ট্রাক, ৭৫টি সাঁজোয়া যান এবং ২৭টি ট্যাঙ্ক তাদের দখলে রয়েছে।
আরএসএফ এ ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, পুলিশ ঘাঁটিতে উল্লাস করছে আরএসএফ। কয়েকজনকে গুদাম থেকে গোলাবারুদের বাক্স সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।
রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে ফুটেজ বা আরএসএফের বিবৃতি যাচাই করতে পারেনি। সেনাবাহিনী বা পুলিশের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে গত ১৫ এপ্রিল সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে রাজধানী খার্তুমে সহিংস সংঘর্ষ শুরু হয়। সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল বুরহানের অনুগত বাহিনী এবং জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালোর নেতৃত্বে আরএসএফ বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশ ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন লাখ লাখ মানুষ। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে অনেক মানুষ।
শনিবার থেকেই রাজধানী খার্তুমের পাশাপাশি বাহরি এবং ওমদুরমান শহরে তীব্র সংঘাত চলছে। পশ্চিম দারফুর অঞ্চলের বৃহত্তম শহর নিয়ালায়ও সম্প্রতি সহিংসতা বেড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
পশ্চিম দারফুরের এল জেনেইনায় জাতিগত লক্ষ্যবস্তু এবং মাসালিত সম্প্রদায়ের লোকদের হত্যার ঘটনায় জাতিসংঘ উদ্বেগ জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, খার্তুম এবং এল জেনেইনা সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও গত সপ্তাহে দারফুরের অন্যান্য অংশ এবং দক্ষিণে কর্ডোফানে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ বেড়েছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড