দক্ষিণ আফ্রিকার ৩০ বছরের গণতান্ত্রিক শাসনে প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি ক্ষমতাসীন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি)। সোমবার (৩ জুন) দলটির পক্ষ থেকে সরকার গঠনের কোনও নির্দিষ্ট উদ্যোগের কথা জানানো হয়নি। দলটির গুরুত্বপূর্ণ একটি কমিটি সরকার গঠনের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে বৈঠক করার কথা রয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
১৯৯৪ সালে বর্ণবাদের অবসানের পর থেকে অতীতের সবগুলো নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল এএনসি। কিন্তু এবার বেকারত্ব, অসমতা ও নিয়মিত বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মতো পরিস্থিতির কারণে দলটি মাত্র ৪০ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়েছে। পাঁচ বছর আগে দলটি ভোট পেয়েছিল ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
অবশ্য এরপরও ভোটের হারে এএনসি এখনও বৃহত্তম দল। কিন্তু এএনসি এককভাবে সরকার গঠন পারছে না। ফলে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশে প্রবেশ করতে যাচ্ছে দেমটি।
সোমবার প্রকাশিত এক নিউজলেটারে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, এই মুহূর্তে আমাদের দেশ দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও গঠনমূলক সক্রিয়তার আহ্বান জানাচ্ছে।
এএনসির সম্ভাব্য অংশীদার হতে পারে ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স, মখোন্তো উই সিজওয়ে ও ইকনোমিক ফ্রিডম ফাইটার্স নামের দল। এসব দলগুলোর নীতি এএনসির বিপরীত। দলগুলো খনি ও ব্যাংকের জাতীয়করণ ও ভূমি পুনর্বণ্টন করার পক্ষে।
এএনসির মহাসচিব ফিকিল এমবালুলা রবিবার শেষ রাতের দিকে বলেছেন, যারা আমাদের সঙ্গে করতে চায় এমন যে কারও সঙ্গে কাজে আমরা প্রস্তুত। কিন্তু কোনও শর্তানুসারে তা হবে না।
সরকারের গঠনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় এএনসির ২৭ সদস্যের একটি সোমবার বৈঠকে মিলিত হচ্ছে। সরকার গঠনে দলের বিভিন্ন প্রস্তাব প্রস্তুত করবে এই কমিটি। মঙ্গলবার তা দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কাছে তুলে ধরা হবে।
দেশটির সংবিধান অনুসারে, ভোটের ফলাফল ঘোষণার দুই সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচিত পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। নতুন পার্লামেন্টের প্রথম দায়িত্ব হবে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট বাছাই করা।
এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এএনসি’র নেতারা রামাফোসার প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তিনি চাপের মুখে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।