সুদানে ব্যাপক দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সুদান একটি বিস্তৃত দুর্ভিক্ষ সংকট-এর দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি স্বাধীন দল দুর্ভিক্ষ পর্যালোচনা কমিটি (এফআরসি)। দেশটিতে অনাহার ও তীব্র অপুষ্টি বৃদ্ধির পর্যালোচনা করে এই তথ্য জানায় জাতিসংঘ সমর্থিত এই সংস্থাটি। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই খবর জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সুদানের পাঁচটি অঞ্চলে ইতোমধ্যেই দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ২ কোটি ৪৬ লাখ মানুষের জরুরি খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন।

২০ মাসের গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটিতে ব্যাপক খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে যা সুদানকে ধ্বংসের মুখে ফেলেছে। সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এর মধ্যকার এই সংঘর্ষ অবসানের লক্ষ্যে বিভিন্ন মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা চালানো হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে।

২০২১ সালে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ যৌথভাবে একটি অভ্যুত্থান করেছিল। তবে ২০২৩ সালে তাদের কমান্ডারদের মধ্যকার ক্ষমতার লড়াই দেশটিকে গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত করেছে, যা সুদানকে বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ মানবিক সংকটগুলোর একটির দিকে পরিচালিত করেছে।

এফআরসি সতর্ক করেছে, এই সংঘাতের অবসান না হলে সুদানে একটি ‘বৃহত্তর বিপর্যয়’ দেখা দিতে পারে।

দুর্ভিক্ষের অবস্থা চিহ্নিত করার জন্য জাতিসংঘের সংস্থা কমিটিটি ইন্টিগ্রেটেড ফুড ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থা এফআরসি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার দেশটির সামরিক সমর্থিত সরকার ‘সুদানের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে এমন অনির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন’ জারি করার অভিযোগে এফআরসি এর সঙ্গে দেশের সহযোগিতা স্থগিত ঘোষণা করেছে।

আইপিসি প্রথম আগস্টে সুদানের দারফুর অঞ্চলের জমজম ক্যাম্পে একটি দুর্ভিক্ষ চিহ্নিত করে। সেখানে তখন প্রায় ৫ লাখ মানুষ আশ্রয় নিচ্ছিল।

এফআরসি’র সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ভিক্ষ এখন দারফুরের অবরুদ্ধ শহর এল-ফাশারের আবু শৌক ও আল-সালাম শিবিরের পাশাপাশি দক্ষিণ কর্দোফান রাজ্যের দুটি এলাকায় দেখা দিয়েছে।

এফআরসি’র প্রতিবেদলে আরও বলঅ হয়, ‘দুর্ভিক্ষ হলো মানুষের দুর্ভোগের সবচেয়ে চরম বহিঃপ্রকাশ যা বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সংস্থানগুলোর একটি বিপর্যয়কর অবনিতির প্রতিনিধিত্ব করে।’

তবে সুদানের দুর্ভিক্ষকে ‘নিছক খাদ্যের অভাব নয় বরং স্বাস্থ্য, জীবিকা ও সামাজিক কাঠামোর গভীর ভাঙ্গন’ হিসেবে অভিহিত করেছে সংস্থাটি ‘যা সমগ্র সম্প্রদায়কে হতাশার মধ্যে ফেলেছে’।

মে মাসের মধ্যে দারফুরের আরও পাঁচটি অঞ্চল দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি। এ ছাড়া, অন্যান্য আরও ১৭টি এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও ছিল জানানো হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গৃহযুদ্ধের কারণে দেশেটির উচ্চ সংঘর্ষপ্রবণ এলাকায় কৃষিকাজ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে কৃষকদের ফসল লুটপাট এবং এর মজুদ ধ্বংস করার ঘটনাও ঘটেছে।

দারফুর ও দক্ষিণ কোর্দোফান উভয়ই সবচেয়ে বেশি সহিংসতার শিকার হয়েছে। সেখানে বন্দুকধারীদের হাতে বহু বেসামরিক নিহত, ধর্ষণ ও অপহৃত হয়েছে।

মে মাসে সুদানে মার্কিন বিশেষ দূত টম পেরিলো বলেছিলেন, কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, সুদানজুড়ে সংঘাতে আনুমানিক প্রায় দেড় লাখ মানুষ নিহত হয়েছে।