নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলের মকওয়া শহরে ভয়াবহ বন্যার এক সপ্তাহ পর এখনও কমপক্ষে ৯৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ১৬০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। বুধবার দেশটির জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
রাজধানী আবুজা থেকে প্রায় ২৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই শহরে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে তীব্র স্রোতের পানির তোড়ে বহু ঘরবাড়ি ভেসে যায় এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থাও সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। বন্যার তীব্রতায় রাস্তাঘাট ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এক বিবৃতিতে জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, নিখোঁজদের খোঁজে বিভিন্ন দল কাজ করছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় এবং দূষিত পানির কারণে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে।
২৭ বছর বয়সী হাবিবা আব্দুল্লাহি বলেন, আমার পাঁচ সন্তানের মধ্যে চারজনকে বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এখনও তাদের মরদেহ পাইনি, তবুও অপেক্ষা করছি—যেন অন্তত শেষবারের মতো তাদের দেখতে পাই।
আন্তর্জাতিক শিশু সংস্থা ইউনিসেফ নাইজেরিয়া ইতোমধ্যে একটি মেডিক্যাল দল মোতায়েন করেছে। তারা নারীসহ স্থানীয়দের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে।
নাইজেরিয়ায় প্রতি বছর বর্ষাকালে (এপ্রিল থেকে অক্টোবর) বন্যা একটি নিয়মিত দুর্যোগ হয়ে উঠেছে। তবে এবারের ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং রেড ক্রস সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত না কমলে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার না হলে নিখোঁজদের খোঁজ পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।