কেনিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৬২

কেনিয়ায় গত এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিপাত ও এর ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এক সপ্তাহ আগে নিহতের এই সংখ্যা ছিল ৪২। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

দেশটির রাজধানী নাইরোবিতে গত রাতে বন্যার পানিতে একটি মিনিবাস আটকে পড়লে সেখান থেকে ১১ জনকে উদ্ধার করেছে কেনিয়া রেড ক্রস। এছাড়া একটি প্লাবিত বাড়ি থেকে দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

গত এক সপ্তাহের এই ভারী বর্ষণ কেনিয়ায় গত কয়েক বছরের মধ্যে দেখা যায়নি এমন আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করেছে। নদীগুলোর পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় অসংখ্য ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে এবং রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবারের প্রবল বৃষ্টির পর নাইরোবির বেশ কিছু স্কুল প্লাবিত হয়েছে এবং সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিছু রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কেনিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অংশে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে, যা বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কর্তৃপক্ষ নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইতোমধ্যে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অংশে এই প্রবল বৃষ্টিপাত এবং পরবর্তী বিধ্বংসী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের অর্ধেকেরও বেশি (৩৩ জন) নাইরোবির বাসিন্দা। সেখানে অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে নদীর গতিপথ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং দুর্বল ড্রেন ব্যবস্থাকে এই প্রাণহানির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুতো রবিবার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কর্তৃপক্ষ বন্ধ হয়ে যাওয়া ড্রেন ব্যবস্থা পরিষ্কার করার কাজ শুরু করেছে।

বন্যার এই ভয়াবহতা কেবল কেনিয়াতেই সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিবেশী দেশ ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলেও বন্যা ও ভূমিধসে ১০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।