দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্যিক রাজধানী জোহানেসবার্গের কাছে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার থেম্বিসা এলাকায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে শহরটির আশপাশে ১০ নারীর মরদেহ পাওয়া গেল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সর্বশেষ মরদেহটি শনিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান টমি মথোমবেনি জানান, ওই নারীকে পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে। একই সঙ্গে পুলিশ ঘটনাগুলোর মধ্যে যোগসূত্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উচ্চ হার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, এখন পর্যন্ত এমন দাবির পক্ষে চূড়ান্ত কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মথোমবেনি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসএবিসিকে জানান, নবম নারীর হত্যাকাণ্ডকে তদন্তকারীরা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন। ওই হত্যার ঘটনায় গত সপ্তাহে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ধারণা, সম্পর্কজনিত বিরোধ থেকে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, জুলাই ও আগস্টে একে অপরের ছয় কিলোমিটারের মধ্যে তিন নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। চলতি মাসের শুরুতে ১০ দিনের মধ্যে আরও ছয় নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় ও বয়স নিশ্চিত হয়েছে, তারা সবাই ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী ছিলেন। কয়েকজনের মরদেহ সম্পূর্ণ বা আংশিক নগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায়।
জুলাইয়ের মাঝামাঝি প্রথম মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ওই নারীকে নগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তার শরীর কেবল টাই দিয়ে বাঁধা ছিল। পরে তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনা হয়নি।
দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের হত্যার হার বিশ্বের অন্যতম বেশি। দেশটিতে গড়ে প্রতিদিন ১৫ জন নারী হত্যার শিকার হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।