মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের ফলাফলে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুমকি দিয়েছেন। যদিও নির্বাচনের ভোট এখনও গণনা চলছে এবং চূড়ান্ত বিজয়ী কে হয়েছেন তা বলা যাচ্ছে না। কিন্তু আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প চাইলেও এবারের নির্বাচনে আদালত হয়ত চূড়ান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিকারী হতে পারবে না। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে একথা জানা গেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটের দিনের আগে গৃহীত ভোট গণনা বন্ধের নির্দেশ দিয়ে ট্রাম্পকে খুশি করার মতো কোনও সিদ্ধান্ত হয়ত আদালত নেবে না। কিংবা মিশিগান ও পেনসিলভানিয়ার মতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অঙ্গরাজ্যগুলোতে আদালতে অভিযোগ জানানোর পর সেগুলোর ফল বদলে যাওয়া নিয়ে সংশয়ী তারা।
নির্বাচনি প্রচারের সময় থেকেই ডাক ভোটের বিরোধিতা করে আসছেন ট্রাম্প। কোনও প্রমাণ ছাড়াই তিনি দাবি করেছেন, এতে জালিয়াতি হবে। যা মার্কিন ইতিহাসে বিরল। কিন্তু ট্রাম্প অটল। তিনি বলে চলেছেন, আমাদের জাতির জন্য এটি বড় ধরনের জালিয়াতি। আমরা চাই আইন সঠিকভাবে কাজে লাগানো হোক। তাই আমরা সুপ্রিম কোর্টে যাব। আমরা চাই সব ভোট বন্ধ হোক।
জালিয়াতির অভিযোগের পক্ষে ট্রাম্প কোনও প্রমাণ হাজির করেননি কিংবা সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হওয়ার ক্ষেত্রে মামলার বিস্তারিতও জানাননি। বুধবারই তার প্রচার শিবিরের পক্ষ থেকে পেনসিলভানিয়ায় দেরিতে আসা ডাক ভোট গণনা বন্ধের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে আগে থেকেই একটি মামলা রয়েছে।
ট্রাম্পের প্রচার শিবির ও রিপাবলিকানরা আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন আদালতে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মিশিগানের ভোট গণনা বন্ধ করার আবেদন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প শিবিরের পক্ষ থেকে হয়ত কোনও নির্দিষ্ট ব্যালট বা ভোট এবং গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ করা হয়ে থাকতে পারে। এমনটি হলে চূড়ান্ত ফলাফলে এসব অভিযোগের প্রভাব নিয়ে তাদের সংশয় রয়েছে।
ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির নির্বাচনি আইন বিশেষজ্ঞ নেড ফলে জানান, ২০০০ সালের নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার উপাদান নেই এবারের নির্বাচনে। ওই সময় সুপ্রিম কোর্ট ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল গোরের বিরুদ্ধে জর্জ ডব্লিউ বুশের পক্ষে ভোট পুনরায় গণনা বন্ধ করেছিল।
ফলে বলেন, ভোটের ফলাফল নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত নির্ধারক হবে কিংবা কীভাবে এটির সমাধান হবে তা বলার মতো সময় এখনও আসেনি।
রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা তাদের আইনজীবীদের বাহিনী প্রস্তুত রেখেছেন। বাইডেনের দলে রয়েছেন পারকিন্স কোয়ি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাচনি আইনজীবী মার্ক এলিয়াস, সাবেক সলিসিটর জেনারেল ডোনাল্ড ভারিল্লি ও ওয়াল্টার ডেলিঙ্গার। ট্রাম্পের আইনজীবীদের মধ্যে রয়েছেন তার প্রচার শিবিরের জেনারেল কাউন্সেল ম্যাট মরগান, সুপ্রিম কোর্টের লিটিগেটর উইলিয়াম কনসোভয় ও জাস্টিন ক্লার্ক।
ট্রাম্পের অ্যাটনি জেনা এলিস বুধবার ভোট গণনাকে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের যদি আইনি চ্যালেঞ্জে যেতে হয় তা একেবারে অপ্রত্যাশিত হয়। ট্রাম্প নিশ্চিত করতে চান যেন ভোট চুরি না হয়।
সুপ্রিম কোর্ট সবার আগে যে বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে তাহলো সেপ্টেম্বরে পেনসিলভানিয়ার শীর্ষ আদালতের দেওয়া একটি রায় নিয়ে। ওই রায়ে ভোটের দিন পর্যন্ত ডাকে পাঠানো ভোটগুলো দিনপরও গণনা করা যাবে।
সুপ্রিম রিপাবলিকানদের ফাস্ট-ট্র্যাক আবেদন আগে খারিজ করেছে। কিন্তু রক্ষণশীল তিন বিচারপ ভোটের দিনের পর তা শুনানির জন্য সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন। এমনকি আদালত যদি মামলাটি গ্রহণ করে এবং রিপাবলিকানদের পক্ষে রায় দেয় তারপরও পেনসিলভানিয়ার চূড়ান্ত ভোটে হয়ত তা প্রভাব ফেলবে না। কারণ এই মামলায় ৩ নভেম্বরের পর আসা ডাক ভোটের কথা বলা হয়েছে।
২০০০ সালে আল গোরের হয়ে লড়া আইনজীবী ডেভিড বোয়েইস জানান, ভোটগ্রহণের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিলে তৃতীয় প্রচেষ্টাতেও ট্রাম্প শিবিরের সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, আমি মনে করি এটি ভান ও আশা করার চেয়ে বেশি কিছু না।
তিনি জানান, মিশিগান ও উইসকনসিনের ফলাফল বাইডেনের পক্ষে গেলে পেনসিলভানিয়া গুরুত্ব হারিয়ে ফেলতে পারে।
পেনসিলভানিয়ায় আরেকটি মামলায় রিপাবলিকানরা অভিযোগ করেছেন, মন্টোগোমারি কাউন্টিতে বেআইনিভাবে কর্মকর্তারা আগেই ভোট গণনা শুরু করেছেন এবং ত্রুটিযুক্ত ব্যালট প্রদানকারীদের পুনরায় ভোটের সুযোগ দিয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইডেন যদি পেনসিলভানিয়া ছাড়াই ২৭০ ইলেক্টোরাল ভোট পেয়ে যান তাহলে এখানকার যে কোনও মামলায় আইনি লড়াই শেষ হয়ে যাবে। এছাড়া যে কোনও চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষেত্রে আদালতের কার্যপ্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আগাতে হবে।
ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের অস্টিন স্কুল অব ল’-এর অধ্যাপক স্টিভ ভ্লাডেক বলেন, সাধারণ প্রক্রিয়া ব্যতিরেকে প্রেসিডেন্ট বা তার প্রচার শিবির দ্রুততর উপায়ে কিছু করতে চাইলে আদালত এমন উদ্যোগ খারিজ করে দেবে। এমনকি বুশ বনাম গোর মামলা ফ্লোরিডার আদালতে প্রথম শুনানি হয়।