ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে আয়কর তদন্ত, অস্বস্তিতে বাইডেন

নাটকীয় নির্বাচনে জনমত পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেন। কিন্তু হোয়াইট হাউজে প্রবেশের আগেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অবশ্য তিনি নিজে কোনও বিতর্কিত কাজ করেননি। সমস্যা তৈরি হয়েছে তার ছেলে হান্টার বাইডেনকে। তার বিরুদ্ধে চীন সংশ্লিষ্টতা ও কর ফাঁকির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন এখবর জানিয়েছে।

50691826_303

হান্টার বাইডেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আমি গতকাল জানলাম যে, মার্কিন অ্যাটর্নির অফিস আমার আয়কর নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। আমি এই ঘটনাটাকে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছি। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, এই ব্যাপারে পেশাদার ও বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা হবে।

হান্টারের দাবি, আয়করের বিষয়টি আমি আইনি পথে থেকে করেছি এবং ঠিকভাবে করেছি। পেশাদার কর পরামর্শদাতাদের কথা মেনেই করেছি।

টিম বাইডেনের তরফে আরেকটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট তার ছেলেকে নিয়ে খুবই গর্বিত। গত কয়েক মাসে হান্টারের বিরুদ্ধে বিষাক্ত রাজনৈতিক আক্রমণ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি সেই চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। এই আক্রমণ তাকে আরও বলিষ্ঠ করেছে।

এই বিবৃতির মাধ্যমে নাম না নিয়েই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প নিয়মিতভাবে বাইডেনের ছেলের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ করেছেন।

তবে এই তদন্তের নির্দেশ বাইডেনের কাছে অস্বস্তির কারণ। কারণ, তিনি এখন তার মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করছেন। কিছুদিনের মধ্যে পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেলের নামও ঘোষণা করবেন। তখন তিনিই তদন্ত সামলাবেন। আগামী ২০ জানুয়ারি বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন। তার আগে তদন্ত শেষ হলে ভালো। না হলে তার সামনে তদন্ত-কাঁটা থাকবে।

ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের অভিযোগ ছিল, বাইডেন যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন বিদেশে ব্যবসা বাড়ানোর জন্য তার রাজনৈতিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়েছিলেন হান্টার। তিনি ২০১৪ সালে ইউক্রেনের এনার্জি কোম্পানির বোর্ড সদস্য হন। তখনই বাইডেনের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ ওঠে। কারণ, বাইডেন তখন ইউক্রেন বিষয়ে মার্কিন নীতি তৈরির মধ্যে ছিলেন।

গত সেপ্টেম্বরে সিনেটে রিপাবলিকান সদস্যের নেতৃত্বাধীন দুটি কমিটি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়েছিল, হান্টার বাইডেনের বোর্ড সদস্য হওয়াটা সমস্যাজনক এবং এর ফলে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অফিসের পক্ষে নিরপেক্ষভাবে নীতির রূপায়ণে অসুবিধা হয়েছে। তবে হান্টার বাইডেনের কোন কাজের ফলে নীতি রূপায়ণে বাধা এসেছে, তা কমিটি জানায়নি।