কানাডায় রানি ভিক্টোরিয়া ও এলিজাবেথের ভাস্কর্য ভাঙচুর

কানাডার উইনিপেগ শহরে রানি ভিক্টোরিয়া এবং রানি এলিজাবেথের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। কানাডার সাবেক আদিবাসী স্কুলে শিশুদের গণকবর পাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে তাদের ভাস্কর্য উপড়ে ফেলেন বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা বলেন, ‘গণহত্যায় কোন গর্ব নেই’।

সম্প্রতি কানাডার বেশ কয়েকটি আদিবাসী স্কুলে শিশুদের গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। একের পর এক গণকবর সন্ধানের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের ভেতর। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া এবং সাসকাচোয়ান প্রদেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর আবাসিক স্কুলে এখন পর্যন্ত এক হাজারের মতো কবর পাওয়া গেছে। ওই সব স্কুলগুলো তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকারের অর্থায়নে ক্যাথলিক চার্চদের দ্বারা পরিচালিত হতো।

রানি ভিক্টোরিয়ার শাসনামলে ১৮৩৭ সাল থেকে ১৯০১ সাল পর্যন্ত কানাডা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরই প্রেক্ষিতে ক্ষোভ জন্মায় দেশটির সাধারণ মানুষের ভেতর। বৃহস্পতিবার উইনিপেগে রানি ভিক্টোরিয়ার ভাস্কর্য টেনে নিচে ফেলে দেন। অনেককে লাথি মারতে দেখা যায়। ভাস্কর্যের পাশে নেচে উল্লাস করতে দেখা যায় কয়েকজনকে। 

ভিক্টোরিয়ার পাশেই রানি এলিজাবেথের ভাস্কর্য থাকায় সেটিকেও গুঁড়িয়ে দেন বিক্ষুব্ধ জনতা। একসময় কানাডায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের স্কুলগুলোতে নির্যাতন করা হতো। গণকবরের বিষয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এই ঘটনাটিকে লজ্জাজনক অধ্যায়ের বেদনাময় অতীতের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি গভীর শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।  

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের এক মুখপাত্র বলেন, ‘রানির ভাস্কর্য অবমাননার নিন্দা জানাচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। তবে শিশুদের গণকবরের ঘটনায় কানাডার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সঙ্গে আছি। একইসঙ্গে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি’।