যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া তাদের নতুন পারমাণবিক-চালিত সাবমেরিন বহর তৈরির বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে এই বহর তৈরি করছে দেশ তিনটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
আকসু চুক্তির আওতায় নিজেদের প্রথম পারমাণবিক-চালিত সাবমেরিন পেতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। অন্তত তিনটি সাবমেরিন পাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে।
মিত্র দেশগুলো একটি নতুন সাবমেরিন বহর নির্মাণ শুরু করবে। এতে থাকবে যুক্তরাজ্য নির্মিতি রোলস-রয়েস রিয়্যাক্টর সহ অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে শান্তি জোরদার করাই এই চুক্তির লক্ষ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন এসব সাবমেরিন হবে পারমাণবিক-চালিত, কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্রবাহী সাবমেরিন নয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক, অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজকে সঙ্গে নিয়ে বাইডেন বলেন, পারমাণবিক মুক্ত দেশ হওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, এই চুক্তির ফলে তা জটিলতায় পড়বে না।
যুক্তরাজ্যের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে মার্কিন পারমাণবিক-চালিত সাবমেরিন পেতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।
চুক্তি অনুসারে, অস্ট্রেলীয় নৌবাহিনীর নাবিকদের যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে পাঠানো হবে পারমাণবিক-চালিত সাবমেরিন পরিচালনা ও ব্যবহার শেখার জন্য।
২০২৭ সাল থেকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়ার পার্থ এলাকায় কয়েকটি সাবমেরিন নিয়ে একটি ঘাঁটি নির্মাণ করবে। এর আগেই তিনটি মার্কিন ভার্জিন-ক্লাস সাবমেরিন কিনবে অস্ট্রেলিয়া। ২০৩০ এর দশকের শুরুতে আরও দুটি এমন সাবমেরিন কেনার সুযোগ থাকবে অস্ট্রেলিয়ার।
এসব কাজ বাস্তবায়নের পর পুরো একটি নতুন পারমাণবিক-চালিত সাবমেরিন বহর নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এই বহর হবে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলীয় নৌবাহিনী। এই সাবমেরিন মডেলের নাম দেওয়া হয়েছে এসএসএন-এইউকেইউএস।
আক্রমণের বহরটি ব্রিটিশ নকশায় ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ায় নির্মিত হবে। তবে তিন দেশের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
বাইডেন বলেছেন, তিন দেশ ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চল যাতে মুক্ত ও উন্মুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।