এপ্রিল মাসে ইরানের ড্রোন হামলা মোকাবিলায় যে ধরনের সহযোগিতা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধে হয়তো তেমন সহযোগিতা করতে পারবে না মার্কিন সেনাবাহিনী। সোমবার (২৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ প্রধান চার্লস কিউ. ব্রাউন এক সাক্ষাৎকারে এই সতর্কতার কথা তুলে ধরেছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।
মার্কিন বিমানবাহিনীর জেনারেল ব্রাউন বলেছেন, যুদ্ধ শুরু হলে হিজবুল্লাহকে সহযোগিতায় আরও এগিয়ে আসবে ইরান।
গাজার ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকেও সমর্থন করে ইরান। কিন্তু জেনারেল ব্রাউন বলছেন, হিজবুল্লাহর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে তেহরান। বিশেষ করে তারা যদি মনে করে হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী বড় ধরনের হুমকির মুখে রয়েছে।
মার্কিন সেনাপ্রধান বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে বৃহত্তর যুদ্ধ শুরুর ঝুঁকি বাড়বে। এর ফলে মার্কিন সেনারা বিপজ্জনক অবস্থায় পড়বে।
তিনি বলেছেন, এপ্রিলে ইরানের ড্রোন হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে যে ধরনের সহযোগিতা করতে পেরেছিল হিজবুল্লাহর সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে তেমন কিছু করতে হয়তো পারবে না মার্কিন সেনাবাহিনী। হিজবুল্লাহ স্বল্পপাল্লার যেসব রকেট দিয়ে ইসরায়েলে হামলা করছে সেগুলো প্রতিহত করা কঠিন।
জেনারেল ব্রাউন বলেছেন, মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার। ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে কোনও মার্কিন ঘাঁটি হামলার শিকার হয়নি।
তিনি আরও বলেছেন, লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে সতর্ক করা অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহকে বিতাড়িত করতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এসব কথা বললেন মার্কিন সেনাপ্রধান।
রবিবার রাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহর হুমকি মোকাবিলায় কূটনৈতিক সমাধানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে তেল আবিব। কিন্তু তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, তা হতে হবে ইসরায়েলের শর্ত অনুসারে।
তিনি বলেছেন, যা করা প্রয়োজন তা আমরা করবো। আমি ইসরায়েলের নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে চাই, যদি আমাদের এই চ্যালেঞ্জ নিতে হয় আমরা তা করবো। আমরা একাধিক রণক্ষেত্রে লড়াই করতে সক্ষম এবং আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।