রাশিয়ার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দীর্ঘমেয়াদি হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড এই নিষেধাজ্ঞা ও অভিযোগ ঘোষণা করতে পারেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
বাইডেন প্রশাসন জনমত প্রভাবিত করার অভিযোগে রুশ প্রচারণার বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ফৌজদারি অভিযোগ ও নিষেধাজ্ঞা।
রাশিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত মিডিয়া নেটওয়ার্ক আরটি (সাবেক রাশিয়া টুডে) এই অভিযোগের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সিএনএন জানিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের পর থেকে আরও বেশি সংখ্যক বিদেশি প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছে।
চলতি বছরের জুন মাসে, ইরান সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত একদল হ্যাকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরে আক্রমণ চালিয়ে কিছু গোপন নথি ফাঁস করে।
এরপর, জুলাই মাসে, মার্কিন বিচার বিভাগ রুশ হ্যাকারদের দ্বারা পরিচালিত প্রায় এক হাজার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট জব্দ করে এবং দুটি ডোমেইন নাম দখল করে। তারা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া বট ফার্ম তৈরি করে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, গবেষকরা চীনা প্রভাবশালী একটি অপারেশন শনাক্ত করেছেন যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আলাপচারিতায় প্রবেশ এবং প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অবশ্য গত নভেম্বর প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে এক সম্মেলনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না।
মার্কিন সাইবারসিকিউরিটি ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির পরিচালক জেন ইস্টারলি মঙ্গলবার বলেন, আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাশা করতে পারি যে, বিদেশি প্রতিপক্ষ আমাদের গণতন্ত্রে আস্থা নষ্ট করার এবং পক্ষপাতদুষ্ট বিরোধ সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে।
রাশিয়া ২০১৬ সালে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির ইমেইল হ্যাকিং এবং চুরি করা নথি উইকিলিকসে ফাঁস করার মাধ্যমে হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণা ক্ষতিগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। মার্কিন রাজনীতিবিদ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন যে, এই অপারেশন সরাসরি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে পরিচালিত হয়েছিল।
২০১৮ সালে, রুশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার বারোজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই প্রচেষ্টার পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয় এবং তাদের গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা জারি করা হয়।