পশ্চিম তীরে আরেক মার্কিন নাগরিককে হত্যা করলো ইসরায়েল, জবাবদিহি নিশ্চিত করবে যুক্তরাষ্ট্র?

ইসরায়েলি সেনারা পশ্চিম তীরে একটি অবৈধ বসতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদকালে মার্কিন-তুর্কি অ্যাক্টিভিস্ট আইসেনুর এজগি আইগিকে গুলি করে হত্যা করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবারের এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল অঞ্চলে বসবাসরত ২৬ বছর বয়সী এই কর্মীর মৃত্যু হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যথাযথ প্রতিক্রিয়া ও জবাবদিহিতা দাবি করা হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্ট এ খবর জানিয়েছে।

এর আগে, ২০২৩ সালে পশ্চিম তীরে আরও দুইজন ১৭ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নিহত হন। লুইজিয়ানার বাসিন্দা তৌফিক আবদেল জব্বার এবং ফ্লোরিডার মোহাম্মদ খদুরকে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র নিন্দা জানালেও এখনও কোনও তদন্ত শুরু হয়নি।

ফাউন্ডেশন ফর মিডল ইস্ট পিস-এর সভাপতি লারা ফ্রিডম্যান বলেছেন, ইসরায়েলি সেনাদের হাতে আমেরিকান নাগরিকদের হত্যার পর বাইডেন প্রশাসনের নীরবতা এখন কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিণত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি হচ্ছে, ইসরায়েলি-আমেরিকানদের জন্য জবাবদিহিতা দাবি করা হয়, কিন্তু ফিলিস্তিনি-আমেরিকানদের জন্য তা হয় না।

আইগির মৃত্যু অনেকটা ২০০৩ সালে রাচেল কোরির ঘটনার মতো, যাকে ইসরায়েলি বুলডোজার দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। কোরি, আইগির মতো ইন্টারন্যাশনাল সলিডারিটি মুভমেন্টের স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন, যারা ইসরায়েলি দখলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, আইগি একটি সহিংস কার্যক্রমের মূল উসকানি দাতা ছিলেন এবং তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জ্যাক লিউ তার মৃত্যুর বিষয়ে শোক প্রকাশ করেছেন এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করার কথা বলেছেন।

আইগির মৃত্যু পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক আক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ঘটেছে। পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে ইসরায়েলি অভিযানে অনেক সাধারণ মানুষ নিহত হন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আমেরিকান নাগরিকদের বিরুদ্ধে এই ধরনের সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইসরায়েলকে আরও কঠোরভাবে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করবে না।