মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন শুল্ক কার্যকরের সম্ভাব্য সময়সীমার আগে ডলারের দরপতন ঘটেছে। মঙ্গলবার মার্কিন মুদ্রার বিপরীতে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়েছে জাপানি ইয়েন। বিনিয়োগকারীরা ১ আগস্টের আগে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির দিকেই নজর রাখছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনেও ইয়েনের বিপরীতে দ্বিতীয় দফায় দর হারিয়েছে ডলার। জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ নির্বাচনের ফলাফলের পর বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, এখন টোকিও কত দ্রুত ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে এবং প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার নেতৃত্বে কী পরিবর্তন আসে, সেটিই মূল বিষয়।
মঙ্গলবার সকালের মধ্যভাগে ডলার ইয়েনের বিপরীতে ০.৭ শতাংশ দর হারিয়ে ১৪৬.৩৬ ইয়েনে দাঁড়ায়। সোমবারও এই হার ছিল ১ শতাংশের বেশি। টানা দুই দিন ধরে ডলার ইয়েনের বিপরীতে দুর্বলতার ধারায় রয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সোমবার জানান, সময় নয়, প্রশাসন চুক্তির গুণগত মানকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, যেসব দেশ ওয়াশিংটনের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় আছে, তাদের জন্য সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নেবেন।
জেফারিজের বৈশ্বিক মুদ্রা প্রধান ব্র্যাড বেকটেল বলেন, বাজার এখনও ১ আগস্টের শুল্ক সময়সীমার গুঞ্জনকে পাশ কাটিয়ে এগোচ্ছে। যতক্ষণ না দৃশ্যমান কিছু ঘটে, ততক্ষণ এটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত যেসব শুল্ক কার্যকর হয়েছে, তাদের সত্ত্বেও অর্থনৈতিক কিছু তথ্য ভালোই দেখাচ্ছে।
শুল্ক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাবাজারে চাপ তৈরি করেছে। ফলে বিনিময় হার সীমিত পরিসরে ওঠানামা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার ইতোমধ্যে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান পরিমাপ করা ডলার সূচক মঙ্গলবার ০.৩ শতাংশ কমে ৯৭.৫৪৫-এ নেমে এসেছে। আগের দিন এই পতনের হার ছিল ০.৬ শতাংশ।
অন্যদিকে, ইউরো ডলারের বিপরীতে ০.২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১.১৭২৫ ডলারে। যদিও চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি বৈঠক থাকলেও সুদের হারে কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
১ আগস্ট থেকে ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঝুঁকিতে থাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি এখনও অনিশ্চিত। সোমবার ইইউ কূটনীতিকরা জানান, চুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়ায় তারা পাল্টা ব্যবস্থা বিবেচনা করছেন।
আইএনজি ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিশ্লেষক ফ্রান্সেস্কো পেসোলে এক গবেষণাপত্রে লিখেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন পাল্টা ব্যবস্থার ব্যাপারে খুব একটা সহনশীল নয়। ফলে পরিস্থিতি সাময়িক হলেও এক ধরনের পাল্টাপাল্টি শুল্কযুদ্ধে পরিণত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ট্যারিফ উত্তেজনার মধ্যে ইউরো ডলারের তুলনায় কতটা এগিয়ে থাকতে পারবে, তা নির্ভর করবে পরিস্থিতির তীব্রতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যান্য দেশের চুক্তি কীভাবে এগোয় তার ওপর।
ট্রাম্প বারবার ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে স্বল্প সুদহার না কার্যকর না করার জন্য সমালোচনা করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ জোনাস গোল্টারম্যান বলেন, আমাদের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী অর্থনৈতিক তথ্য ও শুল্ক-চালিত মূল্যস্ফীতি ফেডকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে বাধ্য করতে পারে। এতে করে ডলার পুনরায় শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।