মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার যুদ্ধবিমান যদি মার্কিন নৌযানগুলোর ওপর দিয়ে উড়ে যায় এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে, তবে সেগুলো গুলি করে নামানো হবে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ সতর্কবার্তা দেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা আবারও মার্কিন জাহাজের কাছাকাছি যুদ্ধবিমান পাঠালে দেশটি বড় সমস্যায় পড়বে। সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে টানা দুই দিন মার্কিন জাহাজের কাছাকাছি ভেনেজুয়েলার সামরিক বিমান উড়তে দেখা গেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে আসা একটি মাদকবাহী জাহাজে হামলা চালায়। এতে ১১ জন নিহত হয়।
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা কোনোভাবেই সামরিক সংঘাতের কারণ হতে পারে না। মাদুরোর দাবি, ভেনেজুয়েলা সবসময় আলোচনায় রাজি, তবে সম্মান বজায় রাখতে হবে।
জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প লাতিন আমেরিকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছেন। তার দাবি, ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকছে এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ত্রেন দে আরাগুয়ার সদস্যরা সেখানেই বসবাস করছে।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ক্যারিবীয় এলাকায় আরও নৌবাহিনী ও কয়েক হাজার সেনা পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া পুয়ের্তো রিকোতে ১০টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র।
মাদুরো এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক হুমকির মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি সম্প্রতি তৃতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। যদিও সেই নির্বাচনকে ‘অস্বচ্ছ’ বলছে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প মাদুরোকে বিশ্বের অন্যতম বড় মাদক চোরাকারবারি আখ্যা দিয়ে তাকে গ্রেফতারের জন্য তথ্য দিতে পারলে ৫ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তার প্রশাসন মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি ও চোরাচালানের অভিযোগ এনেছিল।