ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর যুগের অবসান

ভেনেজুয়েলায় সমাজতান্ত্রিক নেতা হিসেবে পরিচিত নিকোলাস মাদুরোর ১২ বছরের শাসনের আকস্মিক অবসান ঘটেছে। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন সেনাবাহিনী মাদুরোকে বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে গেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ঘোষণার সময় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সফলভাবে মাদুরোকে বন্দি করেছে, যার মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলার এই নেতার দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে। মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকারী হিসেবে তুলে ধরতেন এবং একসময় ওয়াশিংটনের পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলার তেল লুণ্ঠণ প্রচেষ্টা ও দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে আখ্যা দেন।

মাদুরোর পুরো শাসনকালটাই কেটেছে গভীর অর্থনৈতিক মন্দা, ব্যাপক দারিদ্র্য ও গণহারে দেশত্যাগের মধ্যে দিয়ে। ২০২৪ সালে তার সর্বশেষ নির্বাচনেও ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ আনা হয়। শাসনামলের সম্পূর্ণ সময়টাজুড়েই তার বিরুদ্ধে হওয়া আন্দোলনগুলোতে আন্দোলনকারীরা গ্রেফতার, প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের মুখে পড়ে।

মাদুরো ধারাবাহিকভাবে তার বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞাগুলোকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ বলে আখ্যা দেন। ভেনেজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের একটি সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। মাদুরোকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ঘোষিত পুরস্কার দ্বিগুণ করে ৫ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপ্তি আরও বাড়ানো হয় এবং গোয়েন্দা অভিযানেরও অনুমোদন দেওয়া হয়। ক্যারিবীয় অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়। এদিকে জাতিসংঘের একটি মিশনও ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ করেছে।

১৯৬২ সালে শ্রমজীবী পরিবারে জন্ম নেওয়া নিকোলাস মাদুরো তার কর্মজীবন শুরু করেন বাসচালক হিসেবে। পরবর্তীতে সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং একসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন। ২০১৩ সালে হুগো শ্যাভেজের মৃত্যুর পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। তার শাসনামলে দেশটি ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ৭০ লাখেরও বেশি নাগরিক দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। বর্তমানে দেশটির ৮০ শতাংশেরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার মধ্যে বসবাস করছে।