ইরান নয়, এবার ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত এখন থেকে ইরানের পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে। রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি নিয়ে গত বছর দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েনের পর এমন ঘোষণা দিলেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বিশেষ বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ভারত (বাজারে) আসছে। তারা ইরান থেকে তেল কেনার পরিবর্তে এখন ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে। আমরা ইতোমধ্যে সেই চুক্তি বা চুক্তির ধারণার বিষয়ে একমত হয়েছি।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে রফতানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ভারত গত কয়েক বছর ধরে ইরান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল আমদানি করছে না। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলে সস্তায় রুশ তেল কেনা শুরু করে নয়াদিল্লি।

গত মাসে ভেনেজুয়েলার সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়ার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি ও রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। সেই ধারাবাহিকতায় রুশ তেল কেনা বন্ধ করতে ভারতের ওপর ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছিলেন তিনি।

রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে গত আগস্টে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হওয়া পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করেছিলেন ট্রাম্প। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতকে রুশ তেল কেনা থেকে নিরুৎসাহিত করা।

তবে সম্প্রতি ভারতের পক্ষ থেকে রুশ তেল আমদানি কমিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জানুয়ারিতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, ভারত রুশ তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনায় তাদের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হতে পারে।

এদিকে, গত মার্চে ভেনেজুয়েলার মাদুরো প্রশাসনের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়লে ভেনেজুয়েলার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। গত বছর ভারতের ওপরও একই শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

তবে চলতি সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে মার্কিন সরকার, যাতে দেশটির তেল বিক্রি করা সহজ হয়। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের ফলে ভেনেজুয়েলার মজুদ তেল বাজারে আসার পথ সুগম হবে এবং শিগগিরই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে আরও ঘোষণা আসতে পারে।

ট্রাম্পের শনিবারের এই বক্তব্যকে গত এক বছর ধরে চলা ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের শীতল সম্পর্কের উন্নতির সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চীনও ভেনেজুয়েলার তেল কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসতে পারে।