যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আকাশে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে একটি উল্কাপিণ্ড বিস্ফোরিত হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ০৬ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
আমেরিকান মিটিওর সোসাইটি নিশ্চিত করেছে যে, ম্যাসাচুসেটস ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের সীমান্তের কাছে প্রায় তিন ফুট প্রশস্ত একটি উল্কাপিণ্ড বিস্ফোরিত হওয়ায় একাধিক অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, পর পর দুটি বিকট শব্দ শোনার পর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই বিকট শব্দের তীব্রতায় ম্যাসাচুসেটস এবং রোড আইল্যান্ডের বিভিন্ন ভবন কেঁপে ওঠে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, ঘটনার পরপরই পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থাগুলো এই শব্দের কারণ অনুসন্ধানে তৎপর হয়ে ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নাসা জানিয়েছে, উল্কাপিণ্ডটি উত্তর-পূর্ব ম্যাসাচুসেটস এবং দক্ষিণ-পূর্ব নিউ হ্যাম্পশায়ারের প্রায় ৪০ মাইল উচ্চতায় থাকা অবস্থায় খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়। ভেঙে যাওয়ার সময় যে পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়েছে, তা প্রায় ৩০০ টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমপরিমাণ। আর এই কারণেই এমন বিকট শব্দের সৃষ্টি হয়েছিল।
নাসার কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এটি ছিল প্রাকৃতিক মহাজাগতিক বস্তু, কোনও উপগ্রহ বা মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ নয়।
The flash density product really shows this anomalous "flash" which is pretty distinctive of a bolide/meteor reentry. east of Boston. This is the likely source of the loud boom/explosion. pic.twitter.com/ka5b9KfiQ7
— Nick Stewart (@NStewWX) May 30, 2026
আমেরিকান মিটিওর সোসাইটির প্রোগ্রাম মনিটর রবার্ট লুনসফোর্ড জানান, উল্কাপিণ্ডটি মাটিতে আঘাত হানার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, এটি নিশ্চিতভাবেই সাধারণ অগ্নিগোলকের চেয়ে বড় ছিল, প্রায় এক গজ চওড়া। এটি মাটিতে আঘাত হেনেছে কি না তা নিশ্চিত হতে আমাদের এর গতিপথ, গতিবেগ এবং অন্যান্য দিক সম্পর্কে আরও তথ্যের প্রয়োজন। তবে এটি যদি বায়ুমণ্ডলেই পুরোপুরি পুড়ে না গিয়ে থাকে, তাহলে সেটি সমুদ্রে গিয়ে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সূত্র: উইয়ন নিউজ