যে উদ্ভিদ মরে গিয়েও কয়েক ঘণ্টায় ফিরে পায় প্রাণ!

প্রকৃতিতে যদি এমন কোনও উদ্ভিদ থাকে যা পুনর্জন্ম নামের পুরোপুরি যোগ্য, তবে সেটি হলো সেলাজিনেলা লেপিডাফিলা। এই উদ্ভিদের বেঁচে থাকার অলৌকিক কৌশল এতটাই চিত্তাকর্ষক যে, অতীতে স্প্যানিশ মিশনারিরা আমেরিকার আদিবাসীদের কাছে ‘পুনর্জন্ম’-এর ধারণা ব্যাখ্যা করতে এটি ব্যবহার করতেন। একটি বাদামী ও শুকিয়ে যাওয়া উদ্ভিদ পানি ছেটানোর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রাণবন্ত সবুজ হয়ে ওঠা আজও এক দারুণ বিস্ময়।

মেক্সিকোর চিহুাহুয়ান মরুভূমির চরম শুষ্কতায় এই উদ্ভিদটি বছরের পর বছর পানি ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে। পানির অভাবে এটি ভেতরের দিকে কুঁকড়ে বলের মতো আকৃতি নেয় এবং শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পানি হারিয়ে ফেলে। তখন খালি চোখে একে মৃত মনে হলেও জীবন ফিরে পেতে এর কেবল কয়েক ফোঁটা পানির প্রয়োজন হয়। পানির সংস্পর্শে আসার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি মেলতে শুরু করে এবং পুনরায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া শুরু করে।

উদ্ভিদটির এই অসাধারণ সহনশীলতার মূল কারণ এর শরীরে ট্র্যাহালোস এবং বেটেইনস নামক দুটি বিশেষ উপাদান তৈরির ক্ষমতা। ট্র্যাহালোস হলো এক ধরণের স্ফটিক চিনি, যা উদ্ভিদের টিস্যুতে পানির বিকল্প হিসেবে কাজ করে একে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে। আর বেটেইনস চরম খরায় উদ্ভিদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

অদ্ভুত বিষয় হলো, খরা দীর্ঘস্থায়ী হলে উদ্ভিদটি নিজের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর বাতাসের তোড়ে ভেসে বেড়ায়, যাতে কোনও অনুকূল পরিবেশ পেলে সেখানে আবার শিকড় গেড়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারে।

তবে এই উদ্ভিদটি অমর নয়। এভাবে ডজন খানেকবার পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পর এর খরা প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যায় এবং উদ্ভিদটি মারা যায়। এছাড়া যদি হঠাৎ খুব দ্রুত জলশূন্যতা ঘটে এবং গাছটি নিষ্ক্রিয় হওয়ার পর্যাপ্ত সময় না পায়, তাহলেও এর মৃত্যু হতে পারে।

সূত্র: ওডিটি সেন্ট্রাল