যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র তাপপ্রবাহে ২৪ জনের মৃত্যু, ঝুঁকিতে আরও ৪ কোটি

যুক্তরাষ্ট্রের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে জেঁকে বসা তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহে গত এক সপ্তাহে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির মিডওয়েস্ট থেকে পূর্ব উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি বিশাল তাপবলয়ের কারণে এখনও প্রায় ৪ কোটি মানুষ চরম তাপমাত্রার সতর্কতার মধ্যে রয়েছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম ভাবাপন্ন এই আবহাওয়া দেশটির অন্যতম মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে রূপ নিয়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে এই তীব্র গরমের মধ্যে শনিবার কেবল নিউ জার্সিতেই ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ইলিনয়ের কুক কাউন্টি এবং মিসিসিপির হিন্ডস কাউন্টিতে আরও দুজন গরমের কারণে মারা গেছেন।

ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের (এনডব্লিউএস) জলবায়ু প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সপ্তাহান্তে দেশটির ডজনখানেক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে দৈনিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে কিংবা আগের রেকর্ড স্পর্শ করেছে। এর মধ্যে ওয়াশিংটন ডিসি-র রেগান ন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পরপর দুই দিন রেকর্ড তাপমাত্রা নথিবদ্ধ করা হয়েছে; যার মধ্যে ৩ জুলাই সর্বোচ্চ ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট এবং ৪ জুলাই ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

বিভিন্ন গবেষণা দেখাচ্ছে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই তাপপ্রবাহ এখন দীর্ঘস্থায়ী, তীব্র ও ঘন ঘন আঘাত হানছে। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন না হলে ইউরোপের বর্তমান রেকর্ড ভাঙা গরম ৫০ বছর আগে ‘প্রায় অসম্ভব’ ছিল। একটি প্রাথমিক গবেষণা অনুযায়ী, গত মাসে চরম তাপমাত্রার কারণে পুরো ইউরোপজুড়ে আনুমানিক ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে এই ‘দমবন্ধ করা গরমের’ তীব্রতা কিছুটা কমতে শুরু করবে বলে রবিবার জানিয়েছে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস। তবে ক্যারোলিনা থেকে উত্তর ফ্লোরিডা পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম অব্যাহত থাকবে এবং তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ঘরেই থাকবে।

ওয়েদার সার্ভিস সতর্ক করে বলেছে, উচ্চ আর্দ্রতা এবং রাতে তাপমাত্রা ৭০ থেকে ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি থাকায় পর্যাপ্ত শীতলীকরণ ব্যবস্থা ও পানি পানের সুযোগ যাদের নেই, তাদের জন্য হিট-স্ট্রোকসহ গরমজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে।

সূত্র: অ্যাক্সিওস