তুরস্কে চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের মাঝেই এক পুরোনো বিতর্ক নতুন করে উসকে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি সাফ জানিয়েছেন, আধাস্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত। ট্রাম্পের এমন অবস্থানে ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠককালে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এটি (গ্রিনল্যান্ড) যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত, ডেনমার্কের নয়।
ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ট্রাম্পের এই দীর্ঘদিনের খায়েশ ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি ইউরোপের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়িয়েছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর আঙ্কারায় পাল্টা জবাব দিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, মিত্ররা ডেনিশ সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাবে এবং গ্রিনল্যান্ড যে বিক্রির জন্য নয়, তা মেনে নেবে বলেই তিনি আশা করেন। ফ্রেডেরিকসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের করে নেওয়ার মার্কিন ইচ্ছা সবার জানা। আমি আশা করি, এটিও সবার জানা যে এমনটা কখনোই ঘটবে না।
আঙ্কারার সম্মেলনে আর্কটিক বা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনার কোনও পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুতে এগেদে ফেসবুকে লিখেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ এর জনগণই নির্ধারণ করবে; এটি সব সময়ই এমন ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
তবে ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুটির কারণেই ন্যাটোর সঙ্গে তার সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের কোনও উপকারে আসে না। ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের পেছনে কোনও টাকাও খরচ করে না। কিন্তু এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি এখন চীন ও রাশিয়ার জাহাজে পরিবেষ্টিত হয়ে আছে, যা আমরা হতে দিতে পারি না। রাশিয়ার হাত থেকে ডেনমার্ককে বাঁচাতে আমরা এত এত অর্থ খরচ করি, অথচ তারা (ডেনমার্ক) আমাদের এই প্রস্তাবে রাজি হচ্ছে না।
অবশ্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত জুনে জানিয়েছিলেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে প্রতি মাসেই এই বিষয়ে তাদের আলোচনা চলছে।
সূত্র: রয়টার্স