সার্বিক এশিয়ায় জীবনযাত্রার মানের ব্যাপক উন্নতি হলেও বসবাসের যোগ্য শহরের তালিকায় আরও পিছিয়েছে ঢাকা। মঙ্গলবার প্রকাশিত ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী, বসবাসের অযোগ্যতায় বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। ঢাকার পরে রয়েছে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ার ত্রিপোলি ও সিরিয়ার দামেস্ক।
১০০-এর মধ্যে মাত্র ৪২ স্কোর পেয়ে গত বছরের মতো এবারও একই অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশের রাজধানী। এর আগে ২০২৫ সালেও ঢাকা তিন ধাপ পিছিয়ে ১৭১তম হয়েছিল, যা ২০২৪ সালে ছিল ১৬৮তম এবং তার আগের বছর ছিল ১৬৬তম। ধারাবাহিকভাবে ঢাকার এই অবনতি রাজধানীর গভীর নগর-অকার্যকারিতাকেই স্পষ্ট করছে। দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের করাচি ৪৩ স্কোর নিয়ে ঢাকার ঠিক এক ধাপ ওপরে (১৭০তম) রয়েছে।
অন্যদিকে, তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের খেতাব পেয়েছে কোপেনহেগেন। এর পরেই রয়েছে ভিয়েনা ও মেলবোর্ন।
ইআইইউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের শহরগুলোতে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং জাপানের অগ্রগতির কারণে এশিয়া অঞ্চলে গড় বাসযোগ্যতার স্কোর বেড়ে ৭৪ হয়েছে। তবে এই সুফল সমানভাবে বণ্টন হয়নি। ঢাকার মতো অনুন্নত দেশের শহরগুলোর কারণে এশিয়ার গড় মান ধরে রাখা যাচ্ছে না। এশিয়ার গড় স্কোরের চেয়ে ঢাকা ৩২ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের শহরগুলো যুদ্ধবিগ্রহের কারণে পিছিয়ে পড়লেও ঢাকার এই তলানিতে থাকার মূল কারণ দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত দুর্বলতা।
পাঁচটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা সবচেয়ে কম স্কোর পেয়েছে অবকাঠামোতে মাত্র ২৭। এ ছাড়া স্থিতিশীলতায় ৪৫, স্বাস্থ্যসেবায় ৪২ এবং সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৪১ স্কোর পেয়েছে ঢাকা। তবে শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছুটা ভালো স্কোর (৬৭) পেলেও অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্বল নগর পরিবেশের কারণে ঢাকা এখনও বিশ্বের অন্যতম বসবাসের অযোগ্য শহর হিসেবেই রয়ে গেছে।

৩০০ কোটির অবৈধ সম্পদ, পুলিশের ডিএসপি গ্রেফতার
গোপন শর্তে রাজি না, ট্রাম্পের সাহায্য ফিরিয়ে দিচ্ছে আফ্রিকা
প্রশান্ত মহাসাগরে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র চালিয়ে কীসের ইঙ্গিত দিলো চীন






