যুক্তরাষ্ট্রের মোহাভে মরুভূমির এক বিশাল হ্যাঙ্গারে তৈরি হচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন ধারার এক যাত্রীবাহী বিমান, যা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে বোয়িং ও এয়ারবাসের মতো জায়ান্টদের। ক্যালিফোর্নিয়ার স্টার্টআপ কোম্পানি জেটজিরো ২০০-র বেশি আসনবিশিষ্ট একটি বিমানের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষামূলক রূপ নির্মাণ করছে। এটি উড়াল দিলে তা হতে যাচ্ছে বিমানের ফিউজলেজ বা বডি এবং পাখা এক হয়ে যাওয়া বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ।
সামুদ্রিক মান্টা রে মাছের আকৃতির এই অভিনব বিমানের ফলে জ্বালানি খরচ প্রায় অর্ধেক কমে যাবে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এটি পরিবেশবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি বিমানের জ্বালানি দক্ষতাও বাড়াবে। এই ধারণায় ইতোমধ্যে অর্থায়ন ও আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ও অ্যালাস্কা এয়ারলাইন্স। মার্কিন বিমানবাহিনীর আংশিক অর্থায়নে এবং নর্থ্রপ গ্রুম্যানের মালিকানাধীন স্কেলড কম্পোজিটস এটি তৈরি করছে। এতে বোয়িং ৭৫৭-এ ব্যবহৃত প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেটজিরোর সিইও টম ও’লিয়ারি জানান, ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এ নিয়ে যে গবেষণা করেছে, বিদ্যমান সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করেই তারা এই অসম্ভবকে সম্ভব করছেন। বিমানটির এই নকশা পরবর্তীতে সামরিক পরিবহন বা আকাশে জ্বালানি সরবরাহের কাজেও ব্যবহার করা যাবে।
জেটজিরোর জেড৪ মডেলটি মূলত ২০০ থেকে ২৭০ আসনের মাঝারি ও দীর্ঘ দূরত্বের রুটের জন্য তৈরি হচ্ছে। চিরাচরিত গোলাকার টিউব বডির বদলে এতে থাকছে চওড়া ও সমতল কেবিন, নতুন সিটিং লেআউট, বড় জানালা এবং পর্যাপ্ত জায়গা। পেছনের দিকে ওপরে বসানো ইঞ্জিন রানওয়ে ও মাটিতে শব্দের মাত্রা কমাবে। তবে অ্যারোডাইনামিক অ্যাডভাইজরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিচার্ড আবৌলাফিয়া মনে করেন, এই ধারণা আশাব্যঞ্জক হলেও এটিকে একটি অনুমোদিত বিমানে রূপান্তর করতে বিলিয়ন ডলার ও অনেক বছরের প্রচেষ্টার প্রয়োজন হতে পারে।
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠার সময় অনেকেই প্রজেক্টটিকে সন্দেহের চোখে দেখলেও ২০২৩ সালের আগস্টে মার্কিন বিমানবাহিনী তাদের ২৩৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি দেওয়ার পর গতি পায় প্রজেক্টটি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তারা ১৭৫ মিলিয়ন ডলার ফান্ড জোগাড় করেছে, যেখানে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স পরবর্তীতে ১০০টি বিমান কেনার চুক্তি করে রেখেছে। চলতি বছরের শেষেই প্রথম ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে এবং সফল ফ্লাইট সম্পন্ন হলে ২০৩০ সাল থেকে নর্থ ক্যারোলাইনার গ্রিন্সবোরো ক্যাম্পাসে বাণিজ্যিকভাবে এই বিমানের উৎপাদন শুরু করার আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সিইও টম ও’লিয়ারি স্বীকার করেছেন, বিমানের এই পরীক্ষামূলক প্রথম ফ্লাইটের ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে। কারণ এই উড্ডয়ন সফল হলেই পুরো এয়ারলাইন্স শিল্প এক বাক্যে বিশ্বাস করবে যে, এটি কেবল একটি কল্পনা নয়, বরং বাস্তবতা।
সূত্র: রয়টার্স