দীর্ঘ চার বছর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যকার লড়াই হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করায় চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে সাধারণ মানুষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
তায়েজের আল-কাদাহা এলাকার একটি শরণার্থী শিবিরে গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করা আমান মুরশেদ (৫০) নামের পাঁচ সন্তানের এক জননী জানান, নিজের বাড়িতে ফিরে চাষাবাদ ও গবাদি পশু লালন-পালনের স্বপ্ন দেখলেও সাম্প্রতিক সংঘর্ষ সবকিছু নিমিষেই ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার হুথিরা ইয়েমেনের সম্পূর্ণ লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে দেশটিতে বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা ঘণ্টায় ঘণ্টায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
আমান মুরশেদ বলেন, আমরা ভেবেছিলাম একদিন নিজেদের বাড়ি ফিরতে পারব। কিন্তু চলমান সংঘাতের কারণে আজ আমাদের শুধু আগের শিবিরে ফেলে আসা সামান্য কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফিরে পাওয়ার সামান্য আশাটুকুও হারিয়ে গেছে। এখানে আমাদের কোনো খাবার নেই। প্রতিদিন প্রতিবেশীদের দেওয়া এক-আধবেলা খাবারের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। তাড়াহুড়োয় আমাদের সমস্ত খাবার ও রসদ ফেলেই পালিয়ে আসতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত চার বছর পরিস্থিতি বেশ শান্ত ছিল, ফলে নিজ ভিটায় ফেরার আশা দিন দিন জোরালো হচ্ছিল। কিন্তু মাত্র তিন দিন আগে হঠাৎ আমাদের শিবিরের কাছেই নতুন করে লড়াই শুরু হয় এবং আমরা আবারও অজানা এক গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পালিয়ে আসতে বাধ্য হই।
বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগর ও কৌশলগত বাবে আল-মান্দাব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ইয়েমেনের দীর্ঘমেয়াদী গৃহযুদ্ধকে আরও গভীর করে তুলেছে, যার চড়া মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে সাধারণ ও অসহায় বেসামরিক নাগরিকদের।

সারাভানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ







