কোনও কর্মী নেই, তবু বছরে আয় কোটি ডলার: চমকে দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা

প্রতিষ্ঠানে কর্মী নেই একজনও, অথচ বছর শেষে আয় হচ্ছে মিলিয়ন ডলার বা কোটি কোটি টাকা। শুনতে অবাক লাগলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর কল্যাণে বিশ্বজুড়ে এখন গড়ে উঠছে এমন ‘ওয়ান-পারসন’ বা এক সদস্যের বিশাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ইমেইল পাঠাতো, কোডিং লেখা, গ্রাহক সেবা দেওয়া কিংবা রিফান্ড প্রসেস করার মতো সব প্রশাসনিক ও কারিগরি কাজ সামলাচ্ছে এআই।

ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী বেন ব্রোকা গত ডিসেম্বরে এআইভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন। কোনও কর্মী ছাড়াই এ বছর তার আয় হতে যাচ্ছে ১ কোটি ডলার। তিনি বলেন, আপস করলে কাজ কখনোই সেরা হয় না।

ব্রোকার মতে, এআই ব্যবহারে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কোটি কোটি টাকার বেতন বেঁচে গেছে। যা দিয়ে তিনি ৩০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ তুলে নিতে পেরেছেন।

পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম স্ট্রাইপ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এমন একক উদ্যোক্তাদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে এবং ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করা একা উদ্যোক্তার সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।

মার্কিন সেনসাস ব্যুরো ও ব্যাংক অব আমেরিকার উপাত্ত বলছে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন ব্যবসার আবেদন ৪৫ শতাংশ বাড়লেও কর্মী নিয়োগের মানসিকতা নাটকীয়ভাবে কমেছে। তবে একা ব্যবসা পরিচালনার যেমন সুবিধা রয়েছে, তেমনি এতে ঝুঁকিও কম নয়।

ফ্লোরিডার ট্রয় জনস্টন জানান, এআই দিয়ে যেকোনও অ্যাপ সহজে তৈরি করা যায় বলে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। তিনি বলেন, সবার হাতেই এখন হাতিয়ার আছে।

অন্যদিকে, এআই টুল ব্যবহারের খরচ অনেক সময় অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যায়। ব্রোকা প্রথমে অ্যানথ্রোপিকের ক্লড ব্যবহার করে লোকসানে পড়ায় পরে চীনের ফ্রি ওপেন-সোর্স এআই ব্যবহার শুরু করেন। তা ছাড়া সবাই সফল হন না; যেমন পেনসিলভানিয়ার সমীর আহমেদ কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে এআই দিয়ে কনসাল্টিং ব্যবসা শুরু করলেও কয়েক মাসের মধ্যে তা বন্ধ করে পুনরায় চাকরিতে ফিরেছেন।

আবার সান ফ্রান্সিসকোর ক্লেয়ার ভো ৯ মাস একা ব্যবসা চালিয়ে পরবর্তীতে একজন কর্মী নিয়োগ দেন। বর্তমানে তার ১ লাখ ব্যবহারকারী রয়েছে এবং আয় সাত অঙ্কের কোঠায়।

হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক রেমব্র্যান্ড কনিংয়ের গবেষণা অনুযায়ী, এআইভিত্তিক স্টার্টআপগুলোতে সাধারণত ২৫ শতাংশ কম কর্মীর প্রয়োজন হয়। এআই কর্মসংস্থান কমাচ্ছে নাকি নতুন সুযোগ উন্মোচন করছে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা চললেও, এটি যে একা উদ্যোক্তা হওয়ার পথকে ইতিহাসের সবচেয়ে সহজ করে দিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল