৭১ বার আছাড় খেয়েও থামেননি: ৯১ বছর বয়সে রেকর্ড গড়ে পাহাড় জয়

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর লাখ লাখ প্রবীণ নাগরিক পড়ে গিয়ে আঘাত পান, তবে ৯১ বছর বয়সী ডেল স্যান্ডারসের মতো হয়তো আর কেউ নন। অ্যাপলাচিয়ান ট্রেইল পাড়ি দিয়ে সবচেয়ে বয়স্ক হাইকারের রেকর্ড পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে নিজের হিসাব মতেই অন্তত ৭১ বার আছাড় খেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ৬টি ছিল ভয়াবহ পতন, যার একটির পর তাকে হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে হয়েছিল। আর শেষ আছাড়টি খেয়েছিলেন একদম সমাপ্তিরেখা থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে। কিন্তু কোনও বাধাই ৩ হাজার ৫৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথ অতিক্রম থেকে তাকে থামাতে পারেনি।

জর্জিয়ার স্প্রিঙ্গার মাউন্টেন থেকে মেইনের মাউন্ট কাটাহডিন পর্যন্ত বিস্তৃত এই পথ শেষ করতে গত ৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিম ভার্জিনিয়া থেকে হাঁটা শুরু করেছিলেন স্যান্ডারস। ট্রেইলের পরিভাষায় তাকে ‘গ্রে বিয়ার্ড’ নামে ডাকা হয়। গত সোমবার মেইনের সর্বোচ্চ চুড়ায় পৌঁছে সাইনবোর্ডের সামনে প্রার্থনায় বসেন তিনি। স্যান্ডারস বলেন, আমাকে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতেই হতো, সেই সঙ্গে ধন্যবাদ জানাতে হতো আমার সহায়তাকারী দল ও তাদের সবাইকে, যারা আমাকে এতদূর নিয়ে এসেছেন।

এর আগে ২০১৭ সালে ৮২ বছর বয়সে প্রথম এই রেকর্ড গড়েছিলেন স্যান্ডারস। চার বছর পর তার ৮৩ বছর বয়সী বন্ধু এম জে এবারহার্ট সেই রেকর্ড ভেঙে দিলে ফের তা পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা করেন তিনি। প্রথমবারের যাত্রা সহজ হলেও এবারের পথ ছিল অনেক কঠিন। জুনে ভারমন্টের কিলিংটন পর্বত থেকে নামার সময় পাথরের ওপর আছাড় খেয়ে হাত-পা কেটে যায় তার। আঘাতের কথা তুলে স্যান্ডারস বলেন, ভাগ্যিস কিছু ভাঙেনি, কিন্তু বেশ আঘাত পেয়েছিলাম। আমি রক্তও মুছিনি, শুধু হেঁটে গেছি।

কয়েক সপ্তাহ পর বাঁ হাত অবশ হয়ে গেলে তাকে মেইনের এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্ট্রোকের ভয় থাকলেও পরে জানা যায় স্নায়ুতে চাপ পড়েছিল। বাড়ি ফিরে আগস্টে স্ত্রীর অনুপ্রেরণায় তিনি আবার ট্রেইলে নামেন।

পেনসিলভেনিয়ার পথগুলোতে হাইকার ও ভক্তদের ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত স্যান্ডারস বলেন, মানুষ যখন আপনার যত্ন নেয় এবং ট্রেইলে ক্যারেমেল ফ্র্যাপে নিয়ে আসে, তখন রাস্তার পাথর কোনও বিষয়ই নয়। রেকর্ড উদ্ধার এখন আমার কাছে দ্বিতীয় বিষয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মানুষ আমার এই চেষ্টা থেকে সাহস ও অনুপ্রেরণা পাচ্ছে।

জুনে নিউ হ্যাম্পশায়ারে ১০ জন নারীর দলের নেতৃত্ব দেওয়া মেরিডিথ ইউয়েনসন স্যান্ডারসের সঙ্গে দেখা করার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ৯১ বছর বয়সে তার ক্ষিপ্রতা ও শারীরিক ফিটনেস দেখে নিজের চোখকেও বিশ্বাস করা কঠিন ছিল। ট্রেইলে যাত্রা শুরুর আগে স্যান্ডারসের ‘ভিক্টোরি ড্যান্স’ দেখে তারা তাজ্জব বনে যান।

১৯৩৫ সালে জন্ম নেওয়া স্যান্ডারস ছোটবেলায় আকারে ছোট হওয়ার কারণে বুলিংয়ের শিকার হয়ে অ্যাক্রোবেটিক্স ও সাঁতারের মতো খেলায় মন দেন। পরবর্তীতে নৌবাহিনীতে চাকরি ও পার্ক অ্যান্ড রিক্রিয়েশনে দীর্ঘ ক্যারিয়ার শেষে ২০০২ সালে অবসরে যান। ৮৭তম জন্মদিনে পুরো মিসিসিপি নদী ৮৭ দিনে পাড়ি দিয়ে সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তির রেকর্ডও গড়েন তিনি। এবার ১৯ কিলোমিটারের এক পথ হাঁটার শেষে কিছুটা কাহিল হয়ে পড়লে ট্রেইলের ওপর শুয়ে পড়ে বলেন, তার একটি স্বল্প ঘুমের প্রয়োজন। আর ঠিক দুই মিনিট পরেই ঘুম থেকে উঠে তিনি ফের হাঁটতে শুরু করেন।

সূত্র: এপি