নতুন হেলিপ্যাড থেকে শুরু করে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের একটি ছবি, হোয়াইট হাউস সফরে আসা চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে সবকিছুই ঘুরে দেখিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরের পুরো সময়জুড়ে শি জিনপিংকে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তুলে ধরতে মরিয়া ছিলেন তিনি। তবে প্রশ্ন উঠেছে, চীনা প্রেসিডেন্টও কি বিষয়টিকে একইভাবে দেখছেন?
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি জিনপিংয়ের জন্য হোয়াইট হাউসে বড় ধরণের সৌহার্দ্যপূর্ণ অভ্যর্থনার আয়োজন করেন ট্রাম্প। তিনি বারবার চীনা নেতার বাহুতে হাত রেখে তাদের ‘সত্যিকার দারুণ বন্ধুত্বের’ প্রশংসা করেন। জবাবে শি জিনপিংকেও কিছুটা তার মেলাতে দেখা গেছে।
কলোনেডে ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ছবির স্থানে রাখা স্বয়ংক্রিয় স্বাক্ষর যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করলে শি জিনপিং হেসে ওঠেন। এর আগে ট্রাম্প নিজে বিমানবন্দরে গিয়ে শিকে স্বাগত জানান, যা কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য বিরল ঘটনা। তবে বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের এই সৌজন্য প্রদর্শনের চূড়ান্ত রূপ দেখা যায়, যখন তিনি শি জিনপিংকে দক্ষিণ লনের নতুন বিশাল হেলিপ্যাড এবং স্পর্শকাতর মার্কিন প্রেসিডেন্টের হেলিকপ্টার মেরিন ওয়ান-এর ভেতরের অংশ ঘুরিয়ে দেখান।
সাংবাদিকরা ইরান, তাইওয়ান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললে ট্রাম্প বিষয়টিকে পাথরের দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে বলেন, তিনি (শি জিনপিং) গ্রানাইট পছন্দ করেন এবং তিনি পাথরের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে গম্ভীর মুখের শি জিনপিংকে কিছুটা হাসতে দেখা যায়। ওভাল অফিসে চীনা সাংবাদিকদেরও প্রশংসা করেন ট্রাম্প।
তবে দুই নেতার এই রসায়নের মূল পার্থক্য বিশ্লেষকদের চোখে ধরা পড়েছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশেষজ্ঞ রায়ান হাস এক্সে লিখেছেন, শি জিনপিং রাষ্ট্রে-রাষ্ট্রে সম্পর্ক ও ক্ষমতার ভাষায় কথা বলেন। অন্যদিকে ট্রাম্প কথা বলেন ব্যক্তিগত রসায়নের ভাষায়।
ট্রাম্প যখন বন্ধুত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, শি জিনপিং তখন সংযত থেকে শান্তিময় সহাবস্থানের দায়িত্বের কথা বলেন। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তাইওয়ান ও ইরান ইস্যুতে বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করে দেন।
আমেরিকান ইউনিভার্সিটির চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জুডিথ শাপিরো বলেন, এটি শি জিনপিংয়ের জন্য সম্মানজনক। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিং ট্রাম্পকে বন্ধুত্বের অনুভূতি দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলেও কোনও তাড়াহুড়ো করছেন না; কারণ তিনি জানেন দুই বছরের কিছু বেশি সময় পর ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হবে।