মূল্যস্ফীতির চাপ, ব্রাজিলে কঠিন লড়াইয়ে লুলা

জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার পুনর্নির্বাচনের প্রচারে চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী মাসের নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে লড়ছেন ৮০ বছর বয়সী লুলা। তবে অর্থনীতির কিছু সূচকে উন্নতি হলেও দীর্ঘদিনের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়ে গেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

সাও পাওলোর ঐতিহাসিক কেন্দ্রের কাছে একটি মাংসের দোকানে কাজ করেন ৩৯ বছর বয়সী ক্লেইটন জাকারিওতো। তার দাবি, কয়েক বছর ধরে খাদ্যের দাম বাড়তে থাকায় দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা কমছে। লুলা সরকারের প্রথম দিকের মেয়াদে কিছু ভালো কাজের কথা স্বীকার করলেও এবার তিনি লুলাকে ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন।

লুলা অবশ্য ভোটারদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানাচ্ছেন। রেকর্ড কম বেকারত্ব, বৈষম্য হ্রাস এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কমে আসার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতি যতটা খারাপ মনে হচ্ছে, অর্থনীতি ততটা খারাপ নয়। এক প্রচারাভিযানের ভিডিওতে লুলা বলেন, পরিস্থিতি এখনও ভালো নয়, তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

তবে মহামারির পর বিশ্বজুড়ে ক্ষমতাসীনদের মতো লুলার সামনেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ। অর্থনীতির সামগ্রিক সূচক উন্নত হলেও কয়েক বছর ধরে উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবার এখনও সংকটে রয়েছে।

কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন জনমত জরিপে লুলা ও সাবেক ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে। অভ্যুত্থানের চেষ্টায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় জইর বলসোনারো নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও তার ছেলে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

লুলার জন্য অর্থনীতি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে বিভিন্ন জরিপে ইঙ্গিত মিলেছে। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত কুয়েস্টের এক জরিপে প্রায় অর্ধেক ব্রাজিলীয় বলেছেন, গত এক বছরে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মাত্র ১৯ শতাংশ বলেছেন, অর্থনীতি ভালো হয়েছে।

ফ্লাভিও বলসোনারোও মানুষের আয় আগের মতো দিয়ে চলা যাচ্ছে না, এমন উদ্বেগকে প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় করেছেন। তিনি প্রায়ই তার বাবার শাসনামলের সঙ্গে বর্তমান সময়ের বাজারদরের তুলনা করছেন। এর জবাবে লুলার প্রচারশিবির মার্কেট অব লাইজ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে এবং দাম নিয়ে ফ্লাভিওর দাবিকে চ্যালেঞ্জ করছে। পাশাপাশি নির্বাচনী আদালতে অভিযোগও করেছে লুলার প্রচারশিবির।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক থমাস ট্রাউম্যান বলেন, শ্রমবাজার ও মূল্যস্ফীতির বড় সূচকগুলো উন্নতির কথা বললেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঙ্গে তার মিল নেই। জরিপ সংস্থা কুয়েস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ফেলিপে নুনেস বলেন, ভোটাররা অর্থনীতিকে বিচার করেন তাদের বিল পরিশোধ, পণ্য ও সেবা কেনা এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য পূরণের সক্ষমতার ভিত্তিতে।