যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ক্রিস্টা পাইক গত মাসের শেষে ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
শনিবার আইনজীবীদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৫০ বছর বয়সী পাইককে সেই কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যেখানে তিনি গত ৩০ বছর কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি চিকিৎসা পাচ্ছেন।
৩০ সেপ্টেম্বর পেন্টোবারবিটাল ওষুধের দুটি প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও বেঁচে যান পাইক, যাতে তিনি সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিলেন। এ সপ্তাহের শুরুতে তিনি জ্ঞান ফিরে পান এবং কথা বলতে শুরু করেন। এতে বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসাকর্মী ও তার আইনজীবীরা স্তম্ভিত হয়ে যান।
প্রাণঘাতী ইনজেকশনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি বলে ধারণা করা হচ্ছে তাকে। ফলে মামলাটি এখন অচিহ্নিত জলে পড়েছে।
আইনজীবীরা বিবৃতিতে বলেন, এই অসাধারণ পরিস্থিতিতে প্রাথমিক উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসক দলের যত্নের জন্য পাইক কৃতজ্ঞ। কারাগারে ফেরার পর তিনি কী ধরনের চিকিৎসা পাচ্ছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে আইনজীবীরা আগে বলেছিলেন, তার সুস্থ হয়ে ওঠার পথ দীর্ঘ।
মৃত্যুদণ্ড কেন পরিকল্পনামতো হয়নি, তা এখনও জানায়নি টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন। তবে তারা ব্যবহৃত পদ্ধতির পক্ষে সাফাই দিয়েছে। বুধবার আদালতের শুনানিতে টেনেসির সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল উইল আয়ার্স বিচারককে বলেন, রাজ্য আবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করবে কিনা, তা তিনি জানেন না। বিচারক ব্যর্থ ইনজেকশন-সংক্রান্ত সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। ওই প্রমাণ রাজ্যের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ মামলার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
১৮ বছর বয়সে পাইক ও তৎকালীন প্রেমিক তাদারিল শিপ ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যা করেন। নিম্ন আয়ের তরুণদের একটি কর্মপ্রশিক্ষণ শিবিরে তাদের পরিচয় হয়েছিল। অপরাধের সময় আইনত প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় শিপ মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পান। তিনি এখনও কারাগারে আছেন। ২০০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নির্ধারিত প্রথম নারী ছিলেন পাইক।