দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ডলারের দর

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত এবং চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে বিশ্ববাজারে ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দরের কাছাকাছি অবস্থান করছে মার্কিন ডলার। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা সৌদি আরবে হামলা জোরদার করার পর তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলপ্রতি ০.৫ শতাংশ কমে ১০৪ ডলারে নেমে এসেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউক্রেন-রাশিয়া ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’র ঘোষণার কারণে দাম কিছুটা কমলেও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় তা এখনো প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি রয়েছে।

ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের সূচক সামান্য কমে ১০২.১৬ পয়েন্টে দাঁড়ালেও এটি গত সপ্তাহে অর্জিত দেড় বছরের শীর্ষ অবস্থানের কাছাকাছিই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজার নিয়ামক সংস্থার তথ্য অনুসারে, ৭ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে ডলারের ওপর বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক বাজি বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে, যা তিন সপ্তাহ আগেও ছিল ৮৪০ কোটি ডলার। এমইউএফজি-এর কারেন্সি স্ট্র্যাটেজিস্ট লি হার্ডম্যান বলেন, বিদেশি নেতিবাচক পরিস্থিতির কারণে সম্প্রতি মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে, যা এর আবেদন বাড়িয়েছে।

আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রতিবেদন চলতি মাসে ফেডারেল রিজার্ভের নীতি নির্ধারণী বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও সুদের হারের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। গত মাসে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়ায় ফেড।

এ বিষয়ে পেপারস্টোনের গবেষণা প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, অক্টোবরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কম। তবে মূল্যস্ফীতির তথ্য বেশি এলে প্রশ্ন উঠবে তারা আবার জানুয়ারিতে সুদের হার বাড়াবে কি না।

অন্যদিকে ইউরো স্থিতিশীল হয়ে ১.১২ ডলারে লেনদেন হলেও ফ্রান্সের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আর্থিক পরিস্থিতির কারণে এটি টানা পঞ্চম সপ্তাহে লোকসানের মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে ওসিবিসি ব্যাংকের ফরেক্স কৌশলবিদরা জানান, ঋণের চড়া মূল্য ফরাসি সরকারের ওপর বৃহত্তর রাজকোষীয় শৃঙ্খলা আরোপের জন্য যথেষ্ট হবে কি না, তা এখনই বলা কঠিন। জাপানে ছুটির কারণে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর ১৫৮.৪১ ইয়েনে স্থির থাকলেও পাউন্ডের দর ০.১ শতাংশ বেড়ে ১.৩২৪৪ ডলার হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় রুপি ডলারের বিপরীতে ১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৫.৭ রুপিতে পৌঁছেছে।

সূত্র: রয়টার্স