প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি শেষ করা স্বনামধন্য এক গবেষক ২ হাজার ৩০০টিরও বেশি জায়গায় আবেদন করেও একটি স্থায়ী চাকরি খুঁজে পাচ্ছেন না। ৩০ বছর বয়সী জ্যাক ভাইস নামের ওই মার্কিন তরুণ, যার গবেষণা ২০০৪ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ের সময় স্বয়ং নোবেল কমিটির উদ্ধৃতিতে স্থান পেয়েছিল, তিনিও এখন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান সংকটের অদ্ভুত এক শিকার।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্যাক ভাইস বর্তমানে ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সল্টলেক সিটিতে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকছেন। ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণা ও জাতীয় ল্যাবরেটরির ফেলোশিপ থেকে শুরু করে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, এমনকি হিমায়িত কাঁকড়ার কেক বিক্রি করা একটি প্রতিষ্ঠানে খাবার তৈরির কাজ পর্যন্ত আবেদন করে ফেলেছেন তিনি। কিন্তু কোনও গবেষণাগার কিংবা সাধারণ চাকরি ক্ষেত্র থেকেও সুসংবাদ পাননি।
রাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ নম্বর (সুমা কুম লাউদে) পেয়ে স্নাতক শেষ করার পর ২০১৮ সালে প্রিন্সটনের ডক্টরাল প্রোগ্রামে যোগ দেন ভাইস। তার গবেষণার বিষয় ছিল বরফ গঠন ও আন্তঃআণবিক মিথস্ক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক নীতি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংকে কীভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কাজে লাগানো যায়, ২০২৪ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় তার সেই কাজকেই উদাহরণ হিসেবে উদ্ধৃত করেছিল নোবেল কমিটি।
প্রিন্সটনের মতো বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকার পরও চাকরি না পেয়ে তিনি তার দুই বিশ্ববিদ্যালয় (প্রিন্সটন ও রাইস)-এর সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে পরামর্শের বদলে তাদের অনেকেই শুধু চাকরির বিজ্ঞপ্তিগুলো আবার ঘুরে দেখতে বলেন।
দীর্ঘ চেষ্টার পর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) সিস্টেমকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন কাজ পান ভাইস। ঘণ্টায় ৭০ ডলার পারিশ্রমিকের এই কাজে কাজের সুযোগ ছিল অনিশ্চিত; কোনও সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ থাকলেও কোনও কোনও সপ্তাহে চার ঘণ্টায় নেমে আসত। ধীরে ধীরে কাজ আসা বন্ধ হয়ে যায় এবং মার্চ মাসের মাঝামাঝি একটি গ্রুপ চ্যাটের মেসেজে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে চুক্তিটি বাতিল করা হয়েছে।
ছেলের এমন পরিস্থিতিতে হতবাক চিকিৎসক বাবা-মা। তার মা হলি কার্ভার্স নিজেই আবেদনের কাগজপত্রগুলো পরীক্ষা করে কোনও ভুল পাননি। তিনি বলেন, এটি অপ্রত্যাশিত। আমি বুঝতে পারছি না পুরো বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করব।
তার বাবা জন ভাইস বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমি কখনও ভাবিনি যে এই ছেলেটা চাকরি নিয়ে এমন সংগ্রামের মুখে পড়বে।
বর্তমানে প্রচলিত চাকরি পাওয়ার আশা ছেড়ে অন্য ক্যারিয়ারের পথ খুঁজছেন ভাইস। তিনি নভেম্বরে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ল স্কুলে পড়ার পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি এআই চালিত ড্রোন দিয়ে ক্ষতিকর আগাছা দমনের একটি উদ্যোক্তা ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছেন। বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ভাইস বলেন, আপনি যদি বিশ্বাস করেন কোনও কিছুর আসলে মূল্য রয়েছে, তবে আপনাকে নিজেই এগিয়ে এসে সেই মূল্য বাস্তবে রূপ দিতে হবে।