যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয় ও অপছন্দনীয় ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে চাপ বাড়লেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পাশেই দাঁড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে, এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর হেগসেথকে অপসারণের বিষয়টি বিবেচনা করছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বুধবার ট্রাম্প বলেন, ‘না, আমি মনে করি তিনি খুব ভালো কাজ করছেন।’
তবে এই সমর্থনের পরও প্রশাসন যখন নির্বাচনি বিপর্যয়ের কারণ মূল্যায়ন করছে, তখন হেগসেথের পদ ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে। ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা ইঙ্গিত দেন, রাজনৈতিক ক্ষতির শিকার হতে পারেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে হেগসেথকে বলির পাঁঠা বানানো হতে পারে। এর জন্য কাউকেই না কাউকে তো দায়ী করা হবে, আর আপনারা জানেন সেই ব্যক্তি ট্রাম্প হবেন না।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল হেগসেথের পক্ষ নিয়ে বলেন, তিনি ট্রাম্পের এজেন্ডা বাস্তবায়ন চালিয়ে যাবেন এবং বিভাগটি আইন মেনে চলেছে। হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের প্রকাশ্য মন্তব্যের কথা উল্লেখ করেছে, আর পেন্টাগন জানিয়েছে হেগসেথ শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রচারণাকালে ইরান আক্রমণের ক্ষেত্রে হেগসেথের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সংঘাতের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ ছাড়া ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারের পরদিন তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডকে জর্জ ডব্লিউ বুশের বরখাস্ত করার ঘটনার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করছেন অনেকে। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসও মন্তব্য করেছেন যে হেগসেথের সামনে হিসাব-নিকাশের দিন আসছে।
আগামী বছর ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে হেগসেথ তীব্র তদন্তের মুখে পড়তে পারেন। ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা ইরান যুদ্ধ পরিচালনা, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের অপসারণ, ইউক্রেন নীতি এবং ল্যাটিন আমেরিকায় মাদক পাচারকারী সন্দেহে জাহাজে সামরিক হামলার বিষয়গুলো তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনীতিমুক্ত রাখার ভিত্তি নষ্ট করার অভিযোগে বিস্তৃত নজরদারির আশ্বাস দিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সম্ভাব্য প্রধান ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ।
অন্যদিকে হেগসেথকে অন্য পদের জন্য বিবেচনা করা হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে। টেনেসির সিনেটর মারশা ব্ল্যাকবার্ন জানুয়ারিতে গভর্নরের দায়িত্ব নিতে যাওয়ায় তার ফাঁকা হওয়া সিনেট আসনে হেগসেথকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি সেখানে খুবই জনপ্রিয় হবেন, তবে আমি এমন কিছু শুনিনি।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে