যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আইপ্যাক) ৮ কোটি ৪০ লাখ (৮৪ মিলিয়ন) ডলারেরও বেশি অর্থ খরচ করেছে। তবে এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারই খরচ হয়েছে পরাজিত প্রার্থীদের পেছনে। রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট-এর এক নতুন প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটির খরচ করা অর্থের সবচেয়ে বড় অংশ (প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার) ব্যয় হয়েছিল মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক দলের নবনির্বাচিত সিনেটর আবদুল এল-সাইয়েদকে হারানোর চেষ্টায়। তবে তিনি বিশাল জয় পান। বিজয় পরবর্তী ভাষণে আইপ্যাককে নিশানা করে সাইয়েদ বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার খরচ করার জন্য আইপ্যাককে ধন্যবাদ। আমাকে আপনাদের দুবার হারানোর সুযোগ দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা।
এ ছাড়া ইসরায়েলের নীতির সমালোচক ও ইলিনয়ের ৯ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী ড্যানিয়েল বিসের বিরুদ্ধেও প্রায় ৬০ লাখ ডলার খরচ করেছিল আইপ্যাক। তবে বিস সহজেই ওই আসনে জয়লাভ করেন।
বিগত বছরগুলোর তুলনায় এটি আইপ্যাকের অন্যতম দুর্বল পারফরম্যান্স। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের ব্যয় করা অর্থের ৬৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৭ শতাংশ অর্থ জয়ী প্রার্থীদের পেছনে ছিল। মূলত ইরান যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ভোটারদের প্রভাবিত করায় এই ফলাফল এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ হিসেবে দলটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আইপ্যাকের সমর্থিত ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন।
তবে উচ্চপর্যায়ের কিছু আসনে হারলেও লবিং গোষ্ঠী হিসেবে আইপ্যাকের প্রভাব এখনও শেষ হয়ে যায়নি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ সংস্থাটি দাবি করে, তাদের সদস্যদের সমর্থিত ২৩৪ জনেরও বেশি প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া জয়ী ডেমোক্র্যাটিক নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করে, আমরা সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার এবং প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিসকে তাদের ককাসের চমৎকার বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই।
অন্যদিকে, আইপ্যাক-বিরোধী ট্র্যাকিং সংস্থা আইপ্যাক ট্র্যাকার জানিয়েছে, সংস্থাটির সাহায্য ছাড়াই এবার কংগ্রেসের ৩০ জন সদস্য নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন, যা মার্কিন রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই